চুয়াডাঙ্গায় হত্যা ও মাদক মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

২৮ অক্টোবর ২০২৬ - ২২:৩৪
প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
চুয়াডাঙ্গায় হত্যা ও মাদক মামলায় তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ছবি: সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় হত্যা ও মাদকের দুটি আলাদা মামলায় তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে আদালতের বিচারকরা আসামিদের সরাসরি উপস্থিতিতে এই রায় ঘোষণা করেন।

​দীর্ঘ ১৭ বছর ঝন্টু হত্যা মামলার বিচারকাজ শেষে দুজনকে এবং অপর একটি মাদক মামলায় একজনকে এই দণ্ড দেওয়া হয়। হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন আলমডাঙ্গা উপজেলার গাংনী ইউনিয়নের শালিকা গ্রামের সোলায়মান আলীর ছেলে ইসমাইল হোসেন এবং একই এলাকার মৃত আবু ছদ্দিনের ছেলে আবুল কালাম আজাদ। অন্যদিকে, মাদক মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন কালিদাসপুর দক্ষিণপাড়ার মৃত জালাল উদ্দীনের ছেলে শফিউল্লাহ (৬০)।

​আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ১৯ এপ্রিল রাতে ইসমাইল হোসেনের মোবাইল ফোনের ডাকে টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন ঝন্টু। পরদিন স্থানীয় একটি ধানখেত থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। আর্থিক লেনদেনের বিরোধকে কেন্দ্র করে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে মর্মে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় নিহতের পিতা জাহা বক্স মণ্ডল ২০ এপ্রিল আলমডাঙ্গা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলার তদন্তে ইসমাইল হোসেনের পাশাপাশি আবুল কালাম আজাদের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয় এবং তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও ২০ জন সাক্ষীর জবানবন্দি বিশ্লেষণ করে চুয়াডাঙ্গার সংশ্লিষ্ট ট্রাইবুনালের বিচারক মোক্তাগীর আলম দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে অতিরিক্ত দুই মাসের কারাদণ্ড দেন।

​রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট আ. স. ম. আব্দুর রউফ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, দীর্ঘ ১৭ বছর পর হলেও নিহতের পরিবার প্রকৃত ন্যায়বিচার পেল।

​এদিকে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের অন্য একটি মামলায় শফিউল্লাহকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন চুয়াডাঙ্গার বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক শিমুল কুমার বিশ্বাস। একই সঙ্গে তাঁকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

​নথিপত্র থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৯ অক্টোবর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল শফিউল্লাহর বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। ওই সময় তাঁর ঘর থেকে ২২ অ্যাম্পুল বুপ্রেনরফাইন ইনজেকশন জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ৬ হাজার ৬০০ টাকা। এই ঘটনায় আলমডাঙ্গা থানায় মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়। চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেন। রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর সাঈদ মাহমুদ শামীম রেজা ডালিম আশা প্রকাশ করেন যে, এই রায় সমাজে মাদকের বিস্তার রোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 1
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0