ব্যবহারকারীর তথ্য গোপনীয়তায় বিভ্রান্তির দায়ে মেটাকে ২৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা

২২ অক্টোবর ২০২৬ - ১৫:৪৮
4 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
ব্যবহারকারীর তথ্য গোপনীয়তায় বিভ্রান্তির দায়ে মেটাকে ২৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা
ছবি সংগৃহীত

ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের ব্যবহার ও গোপনীয়তা নিয়ে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মূল প্রতিষ্ঠান মেটাকে ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার জরিমানা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর একটি আদালত। দুই সপ্তাহের দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বিচারক ফ্রান্সিস ম্যাথিউ গত বুধবার এই ঐতিহাসিক রায় দেন। আদালতের জুরি বোর্ড অনুসন্ধানে নিশ্চিত হয়েছে যে, ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষা ও তা শেয়ার করার বিষয়ে মেটা দীর্ঘদিন ধরে ভুল তথ্য দিয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে আসছে।

​নিউ মেক্সিকো আদালতের এই রায়ের কঠোর বিরোধিতা করে আপিল করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে মেটা কর্তৃপক্ষ। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানটির প্রধান আইনজীবী সিজে মাহোনি এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এ ধরণের আদেশের ফলে অঙ্গরাজ্যটিতে ব্যবসা পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। উচ্চ আদালতে আপিলের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত বাতিল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। মেটার ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ জরিমানার ঘটনা হলেও আপিল প্রক্রিয়ার কারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পেতে সময় লাগবে।

​আলোচিত এই মামলার সঙ্গে ২০১৮ সালের বহুল আলোচিত কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারির সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে। সেই ঘটনায় রাজনৈতিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা অনুমতি ছাড়াই কোটি কোটি ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করে ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছিল। নিউ মেক্সিকোর আইনজীবীরা আদালতে অভিযোগ করেন, মেটার শীর্ষ নির্বাহীরা অনুমতি ছাড়া তৃতীয় পক্ষকে তথ্য না দেওয়ার বিষয়ে বারবার দাবি করলেও বাস্তবে সম্পূর্ণ বিপরীত আচরণ করেছেন। একই সাথে প্ল্যাটফর্মটিতে ছড়িয়ে পড়া ঘৃণামূলক বক্তব্য থেকে আয় করা এবং কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের নীতিমালার বিষয়েও বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে জুরি।

​মামলার বিবরণীতে জানা যায়, মেটার এই অসত্য তথ্যের কারণে অঙ্গরাজ্যটির প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং মেটা অন্তত ৪০ লাখ বার অঙ্গরাজ্যের স্থানীয় আইন লঙ্ঘন করেছে। নিউ মেক্সিকোর অ্যাটর্নি জেনারেল রাউল টরেজ রায়ের পর জানান, দীর্ঘ দিন ধরে প্রভাবশালী প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের আইনের ঊর্ধ্বে মনে করে আসছিল। এই রায় নিশ্চিত করেছে যে, আকারের দিক থেকে যতই বড় হোক না কেন, কোনো প্রতিষ্ঠানই জবাবদিহির বাইরে নয়। অঙ্গরাজ্যের আইনজীবীরা সর্বোচ্চ ৪০ বিলিয়ন ডলার জরিমানার আবেদন জানালেও মেটা তা ৩.৪ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার যুক্তি দেখায়। তবে পর্যালোচনা শেষে আদালত সর্বমোট ২১৯ বিলিয়ন ডলারের হিসাব থেকে কমিয়ে ২৫ বিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করেন। আদেশে ২০১০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১১ বছর ধরে মার্ক জাকারবার্গসহ মেটার শীর্ষ নির্বাহীদের যোগাযোগের বিষয়টিকে বিভ্রান্তিকর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করা হয়।

​এর আগে ২০১৯ সালেও তথ্য সুরক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় মার্কিন ট্রেড কমিশন (এফটিসি) মেটাকে ৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছিল। এছাড়া চলতি বছর শিশুদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর দায়ে নিউ মেক্সিকোেই প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়। বিপুল অংকের জরিমানার মুখোমুখি হলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতের প্রযুক্তিতে নিজেদের অবস্থান শক্ত রাখতে চলতি বছরে অন্তত ১৩৫ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের বিশাল পরিকল্পনা নিয়েছে মেটা। প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ জানিয়েছেন, তাদের ভোক্তাকেন্দ্রিক এআই টুল 'মিউজ' ইতোমধ্যেই এক কোটি মানুষ ব্যবহার শুরু করেছেন। বিপুল বিনিয়োগের কারণে ১৪ বছরের মধ্যে এই প্রথম মেটার পরিচালনগত নগদ প্রবাহ ঋণাত্মক ধারায় নেমেছে। তবে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে মেটার মোট আয় আগের বছরের চেয়ে ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬৪.৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং নিট মুনাফা তিনগুণ বেড়ে ৯.৮ বিলিয়ন ডলার স্পর্শ করেছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0