২০২৬-এর প্রথম ৬ মাসে সৌদিতে ১০৮ জনের মৃত্যুদণ্ড: ৫৪ শতাংশই বিদেশি নাগরিক
সৌদি আরবে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ১০৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে বাংলাদেশিসহ ৫৯ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন, যা মোট মৃত্যুদণ্ডের ৫৪ শতাংশ। মানবাধিকার সংস্থা ‘ইউরোপিয়ান সৌদি অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস’ (ইএসওএইচআর)-এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজ ও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের শাসনামলে দেশটিতে কার্যকর হওয়া মৃত্যুদণ্ডের মোট সংখ্যা ২ হাজারে পৌঁছেছে, যা পূর্ববর্তী শাসনামলগুলোর তুলনায় রেকর্ড। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের হারে সৌদি আরব বিশ্বের শীর্ষ সারির দেশগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।
মৃত্যুদণ্ডে বিদেশি ও দেশি নাগরিকদের অনুপাত
ইএসওএইচআরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ১৭টি দেশের নাগরিকদের ওপর এই দণ্ড কার্যকর করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ৪৯ জন সৌদি নাগরিক (৪৬ শতাংশ) এবং ৫৯ জন বিদেশি নাগরিক (৫৪ শতাংশ)।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিদেশি নাগরিকদের তালিকায় বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে ইথিওপিয়া, পাকিস্তান, সুদান, ইয়েমেন, সিরিয়া, জর্ডান, সোমালিয়া, মিসর, নাইজেরিয়া, বেনিন, ইরাক, কুয়েত, কেনিয়া, উগান্ডা ও আফগানিস্তানের নাগরিকরা।
মাদকসংক্রান্ত অপরাধে দণ্ড বেশি
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট মৃত্যুদণ্ডের প্রায় ৬৬ শতাংশ বা ৭১টি কার্যকর হয়েছে মাদকসংক্রান্ত মামলায়। এ ছাড়া হত্যার দায়ে ২৫ জন, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত মামলায় ৯ জন এবং অন্যান্য মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
সংস্থাটি জানায়, মোট মৃত্যুদণ্ডের ৭৬ দশমিক ৮ শতাংশ (৮৩টি) ঘটনা ঘটেছে ইচ্ছাকৃত হত্যা ছাড়া অন্য অপরাধের ক্ষেত্রে, যা আন্তর্জাতিক আইনের মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। পাশাপাশি মোট দণ্ডের ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ (৮৪টি) বিচারকের বিবেচনাধীন শাস্তি বা 'তাজির'-এর আওতায় দেওয়া হয়েছে। ১০৮টির মধ্যে ৯১টি মামলারই পূর্বনথি কোনো সংস্থার কাছে না থাকায় সৌদি বিচারপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব প্রকাশ পেয়েছে বলে সংস্থাটি দাবি করে।
রাজনৈতিক মামলা ও শৈশবের অপরাধের ঝুঁকি
বিশেষায়িত ফৌজদারি আদালতে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত মামলায় সাজাপ্রাপ্তদের মৃত্যুদণ্ড মোট সাজার ৮ দশমিক ৩ শতাংশ। গত জুন মাসে সৌদ আল-ফারাজ এবং ৯ এপ্রিল আলী আল-সুবাইতি নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়, যার বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগ ছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শৈশবে সংঘটিত অপরাধের অভিযোগে ইউসুফ আল-মানাসিফ, জাওয়াদ কুরেইরিসসহ অন্তত পাঁচজন এখনো মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে আছেন। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ মতপ্রকাশের অভিযোগে শেখ সালমান আল-আওদা ও শেখ হাসান আল-মালিকিসহ ৪৯ জন বন্দির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ মৃত্যুদণ্ড দাবি করে আসছে।
কারাগারে বিদেশি বন্দিদের অবস্থা ও আন্তর্জাতিক আইন
সৌদির বিভিন্ন কারাগারে বর্তমানে অসংখ্য বিদেশি নাগরিক মৃত্যুদণ্ডের অপেক্ষায় রয়েছেন। এর মধ্যে খামিস মুশাইত কারাগারে ৫৮ জন ইথিওপীয়, নজরান কারাগারে ১০ জন এবং তাবুক কারাগারে ৮ জন মিসরীয় বন্দি রয়েছেন। দোভাষীর অভাব, আইনি সহায়তাহীনতা ও বিচারপ্রক্রিয়া না বোঝার কারণে এসব বন্দি চরম অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
ইএসওএইচআর অভিযোগ করেছে, নির্যাতনবিরোধী সনদ ও শিশু অধিকার সনদের মতো আন্তর্জাতিক অঙ্গীকার রক্ষা না করেই সৌদি আরব উচ্চহারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে চলেছে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











