সুদানের বারা শহরে আরএসএফের তাণ্ডব: স্বেচ্ছাসেবকদের উদ্যোগে দাফন ছয়শ মরদেহ

২২ অক্টোবর ২০২৬ - ১৪:৩৬
2 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
সুদানের বারা শহরে আরএসএফের তাণ্ডব: স্বেচ্ছাসেবকদের উদ্যোগে দাফন ছয়শ মরদেহ
ছবি: সংগৃহীত

গৃহযুদ্ধের জেরে সুদানের উত্তর কোর্ডোফানের বারা শহর ও এর সংলগ্ন এলাকাগুলো বর্তমানে চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়ে এক মানবশূন্য মৃত্যুপুরীতে রূপ নিয়েছে। আধা সামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) নির্মম হামলায় নিহত শত শত মানুষের পচে যাওয়া মরদেহের স্তূপে ভরে গেছে পুরো অঞ্চল। রাস্তাঘাট ও অলিগলিতে পড়ে থাকা অসহায় সাধারণ মানুষের মরদেহের মধ্য থেকেই চরম ঝুঁকি নিয়ে এ পর্যন্ত ছয় শতাধিক মৃতদেহ উদ্ধার করেছেন স্থানীয় ৫০ জন সাহসী স্বেচ্ছাসেবক।

​মিডল ইস্ট আইয়ের (এমইই) একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরের অক্টোবর মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) মদদপুষ্ট আরএসএফ বাহিনী এই অঞ্চলে গণহত্যা চালায়। পরবর্তীতে গত জুলাইয়ে সুদানি সশস্ত্র বাহিনী (এসএএফ) বারা শহর পুনরায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সময় ওই ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞের চিত্র সামনে আসে।

​তীব্র তাপদাহে দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে পড়ে থেকে মৃতদেহগুলো পচে কঙ্কালে রূপ নিয়েছে। শিশু ও বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের ছড়িয়ে থাকা হাড়গোড় পিকআপ ভ্যানে তুলে গণকবর দিচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবকরা। পচা লাশের দুর্গন্ধে সেখানকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে পড়েছে এবং ছড়িয়ে পড়ছে নানা অজানা রোগ। মাস্ক, গ্লাভস, জীবাণুনাশক ও পর্যাপ্ত জ্বালানির তীব্র সংকট থাকা সত্ত্বেও সম্পূর্ণ নিজেদের উদ্যোগে এই ঝুঁকিপূর্ণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। বারা প্রতিরোধ কমিটির তথ্য অনুযায়ী, গেরিগিখ ও জাবরাত আল-শেখের মতো আশপাশের গ্রামগুলোতে এখনো বহু মরদেহ উদ্ধার করা বাকি রয়েছে।

​উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের এপ্রিল মাস থেকে চলমান সুদান গৃহযুদ্ধ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে। দেশটিতে এ পর্যন্ত প্রায় দেড় লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এক কোটিরও বেশি মানুষ। একদিকে এসএএফ তুরস্ক ও মিসরের সামরিক সহায়তায় উত্তর কোর্ডোফানের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে এবং বাবলা আঠা বা গাম অ্যারাবিক সরবরাহের প্রধান কেন্দ্র পশ্চিম কোর্ডোফানের দিকে এগোচ্ছে। অন্যদিকে, কোর্ডোফানে আধিপত্য ধরে রাখতে খার্তুম ও ওমদুরমানসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এখনো ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে আরএসএফ। ফলে আন্তর্জাতিক নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও সুদানের এই রক্তক্ষয়ী সংকট থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0