বিতর্ক এড়াতে প্রযুক্তির ছোঁয়া ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকসে
দেশের ক্রীড়াঙ্গনে অ্যাথলেটিকস মানেই যেন ফলাফলের নিয়ে প্রশ্ন, নানান অভিযোগ আর অসন্তোষের চিরচেনা চিত্র। বিশেষ করে গত আসরে নারীদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টের ফলাফল নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক এখনো ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে আছে। তবে সেই পুরোনো বিতর্ক এড়াতে এবার সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক পদ্ধতিতে ফলাফল প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে অ্যাথলেটিকস ফেডারেশন। আসছে ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিকসে এই পরিবর্তন দেখতে পাবেন ক্রীড়াপ্রেমীরা।
গতকাল (বুধবার) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিযোগিতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম তপন। তিনি জানান, এবার ফটোফিনিশের নিখুঁত ও দ্রুত ফলাফল নিশ্চিত করতে মাঠে কাজ করবেন সাতজন বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার। এছাড়া দর্শকদের সুবিধার জন্য থাকবে তিন থেকে চারটি আধুনিক ডিসপ্লে বোর্ড। প্রতিটি ইভেন্ট শেষ হওয়ার মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যেই ফলাফল প্রকাশ করা হবে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এতে ফলাফল নিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটবে এবং প্রতিযোগিতায় স্বচ্ছতা বহুগুণ বেড়ে যাবে।
তিন দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় নারী ও পুরুষ বিভাগ মিলিয়ে মোট ৪০টি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। তবে মূল ফুটবল মাঠের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে সব ধরনের থ্রো ইভেন্টগুলো আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবারের আসরে পদকজয়ীদের জন্য থাকছে আর্থিক প্রাইজমানি। সোনা, রুপা ও ব্রোঞ্জ পদকজয়ীরা যথাক্রমে পাবেন ৬ হাজার, ৫ হাজার ও ৩ হাজার টাকা। এছাড়া প্রতিযোগিতায় নতুন কোনো রেকর্ড গড়লে খেলোয়াড়দের জন্য থাকছে ২০ হাজার টাকার বিশেষ পুরস্কার।
টুর্নামেন্টের মূল পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। পাশাপাশি ওরিয়ন গ্রুপ, নোমান গ্রুপ, শেলটেক ও টিকে গ্রুপসহ কুড়ির বেশি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান এই আয়োজনে সহযোগিতা করছে। ফেডারেশনের সভাপতি ও নোমান গ্রুপের কর্ণধার আব্দুল্লাহ জাবের সীমিত পরিসরে হলেও দেশের অ্যাথলেটিকসের পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে ব্যানার ও ফেস্টুনে পৃষ্ঠপোষকদের লোগো থাকলেও সরকারি ছুটির কারণে বর্তমানে ফেডারেশনের কর্তাদের নিজেদের অর্থ দিয়েই টুর্নামেন্টের খরচ সামলাতে হচ্ছে। সাধারণ সম্পাদকের হিসাব অনুযায়ী, এই সামার অ্যাথলেটিকস আয়োজনে সাধারণত ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার মতো খরচ হয়। এছাড়া উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতির কারণে কিছু বাড়তি প্রস্তুতি থাকলেও অতিরিক্ত কোনো খরচ করা হচ্ছে না।
সামার অ্যাথলেটিকসের পাশাপাশি ফেডারেশনের দৃষ্টি এখন আসন্ন পাকিস্তান এসএ গেমসের দিকেও। নতুন গঠিত অ্যাডহক কমিটি এই আসরে স্বর্ণ, রুপা ও ব্রোঞ্জ মিলিয়ে অন্তত ১০টি পদক জয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে অ্যাথলেটিকসের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন ও অনুশীলনের জন্য একটি আলাদা ভেন্যু এবং স্থায়ী আবাসন ক্যাম্পের জোরালো দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, খেলাধুলার আদি উৎস বা 'সব খেলার জননী'খ্যাত অ্যাথলেটিকস একসময় আশি ও নব্বইয়ের দশকেও দেশে ব্যাপক জনপ্রিয় ছিল এবং দক্ষিণ এশীয় পর্যায়ে দেশের অর্জনও ছিল বেশ গৌরবোজ্জ্বল। দীর্ঘদিনের সেই হারানো জৌলুস ও মানুষের আস্থা এই আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাणे ট্র্যাকে ফিরে আসে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











