নতুন ফোন বা কম্পিউটারে কেন বিজ্ঞাপিত স্টোরেজের চেয়ে কম জায়গা দেখায়?

২১ অক্টোবর ২০২৬ - ১৭:৩২
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
নতুন ফোন বা কম্পিউটারে কেন বিজ্ঞাপিত স্টোরেজের চেয়ে কম জায়গা দেখায়?
ছবি: সংগৃহীত

নতুন স্মার্টফোন, হার্ডড্রাইভ কিংবা এসএসডি (SSD) কেনার পর অনেকেই খেয়াল করেন যে বাক্সে বা বিজ্ঞাপনে উল্লেখিত মোট ধারণক্ষমতার তুলনায় ব্যবহারযোগ্য স্টোরেজ কিছুটা কম দেখাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ৫১২ গিগাবাইট (GB) স্টোরেজের একটি ড্রাইভ উইন্ডোজ কম্পিউটারে যুক্ত করলে তা প্রায় ৪৭৭ গিগাবাইট হিসেবে প্রদর্শিত হয়। বিজ্ঞাপিত ধারণক্ষমতা ও প্রকৃত ব্যবহারের মধ্যে এমন পার্থক্যের কারণে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে—তবে কি ক্রয়ের সময় প্রতারণার শিকার হতে হলো? বিজ্ঞানের সাধারণ নীতি ও কম্পিউটার বিজ্ঞানের হিসাব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর পেছনে প্রধানত স্টোরেজ পরিমাপের ভিন্ন পদ্ধতি ও সিস্টেম ফাইলের অবস্থান দায়ী।

​মূলত স্টোরেজ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পণ্যের ধারণক্ষমতা হিসাব করে দশমিক (Decimal) পদ্ধতিতে। এই নিয়ম অনুযায়ী, ১ কিলোবাইটে ১,০০০ বাইট এবং ১ গিগাবাইটে ১০০ কোটি বাইট ধরা হয়। অর্থাৎ, কোম্পানিগুলোর হিসাবে ১ টেরাবাইট ড্রাইভের অর্থ হলো ১ লাখ কোটি বাইট।

​অন্যদিকে, উইন্ডোজের মতো বহুল ব্যবহৃত অপারেটিং সিস্টেমগুলো কম্পিউটারের তথ্য বা স্টোরেজ পরিমাপ করে বাইনারি (Binary) একক বা ২-এর গুণিতক হিসাবে। বাইনারি পদ্ধতিতে ১ গিবিবাইট (GiB) বলতে ১০৭ কোটি ৩৭ লাখ ৪১ হাজার ৮২৪ বাইটকে বোঝায়। পদ্ধতিগত এই পার্থক্যের কারণে নির্মাতার হিসাবের ১ টেরাবাইট স্টোরেজ উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে রূপান্তর হয়ে প্রায় ৯৩১ গিবিবাইট হিসেবে দেখা দেয়। তবে অ্যাপল-এর তৈরি ম্যাকওএস (macOS) দশমিক পদ্ধতি অনুসরণ করে তথ্য প্রদর্শন করায় সেখানে ১ টেরাবাইটের ড্রাইভ প্রায় পূর্ণ ১ টেরাবাইট হিসেবেই দেখায়।

​পদ্ধতিগত গণনার পাশাপাশি ডিভাইসের নিজস্ব স্টোরেজ দখলের সুবিধার্থে অপারেটিং সিস্টেম ও আগে থেকে ইনস্টল করা নানা সফটওয়্যার বা অ্যাপ বড় ভূমিকা পালন করে। একটি নতুন ফোন বা ল্যাপটপ চালু ও পরিচালনা করার জন্য সিস্টেম ফাইলের উপস্থিতি অপরিহার্য। উদাহরণ হিসেবে, ১২৮ গিগাবাইট স্টোরেজের আইফোনে আইওএস (iOS) ও সিস্টেম ক্যাশ মেমোরি উল্লেখযোগ্য স্থান দখল করে নেয়। একইভাবে গেমিং ল্যাপটপে উইন্ডোজ ১১ অপারেটিং সিস্টেম বেশ কিছুটা জায়গা আগেই সংরক্ষণ করে ফেলে।

​এছাড়া ডিভাইসে জমে থাকা অস্থায়ী ফাইল (Temporary files), সফটওয়্যার আপডেটের তথ্য এবং ক্যাশ মেমোরি প্রতিদিনের ব্যবহারে স্টোরেজ গ্রহণ করতে থাকে। ফোনের ফাঁকা জায়গা বেশি কমে গেলে কাজের গতি ধীর হয়ে যেতে পারে এবং নতুন অ্যাপ ইনস্টলে জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, নতুন গ্যাজেট কেনার সময় বিজ্ঞাপিত সংখ্যার ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে বাইনারি রূপান্তর ও সিস্টেম ফাইলের জন্য নির্ধারিত স্থান বাদ দিয়ে আসল ব্যবহারযোগ্য স্টোরেজের হিসাব মাথায় রাখা উচিত।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0