প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপনে লাভবান হওয়ার অভিযোগ: মেটার বিরুদ্ধে আমেরিকার রোড আইল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের মামলা
ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপে ব্যাপক হারে প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন প্রচার হতে দেওয়া এবং তা থেকে অনৈতিকভাবে মুনাফা অর্জনের অভিযোগে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটা প্ল্যাটফর্মসের বিরুদ্ধে মামলা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ড অঙ্গরাজ্য। মামলাটি গত বৃহস্পতিবার প্রভিডেন্স সুপিরিয়র কোর্টে দায়ের করেন রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল পিটার নেরোনহা।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, মেটা নিজেদের কোটি কোটি ব্যবহারকারীকে সুরক্ষা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও আড়ালে শত শত কোটি ডলারের ভুয়া ও প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপনে অংশ নিয়েছে এবং তা থেকে অবৈধ আয় করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অঙ্গরাজ্য হিসেবে মেটার বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপনের অভিযোগে এটিই প্রথম মামলা। এর আগে গত মে মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান্টা ক্লারা কাউন্টি মেটার বিরুদ্ধে একই ধরনের আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিল।
রোড আইল্যান্ডের এই মামলায় মেটার বিরুদ্ধে অঙ্গরাজ্যের আইন লঙ্ঘনের জন্য আর্থিক জরিমানা, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের অর্থ ফেরত, বেআইনি আয় বাজেয়াপ্তকরণ এবং বিজ্ঞাপনী ব্যবস্থার অপব্যবহার বন্ধে আদালতের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল পিটার নেরোনহা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানান, মেটা জেনেশুনে সাধারণ ব্যবহারকারীদের প্রতারণার ঝুঁকিতে ফেলেছে এবং বিপুল পরিমাণ লাভ করেছে।
অন্যদিকে মেটা এই মামলাকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে তা আইনিভাবে মোকাবিলার ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র অ্যান্ডি স্টোন এক বিবৃতিতে জানান, প্রতারণামূলক নেটওয়ার্ক বন্ধ করতে মেটা নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কাজ করে। তিনি বলেন, গত এক বছরে মেটা ১৫ কোটি ৯০ লাখের বেশি স্ক্যাম বা ভুয়া বিজ্ঞাপন সরিয়ে নিয়েছে এবং নতুন বেশ কয়েকটি নিরাপত্তা ফিচার চালু করেছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রকাশিত এক অভ্যন্তরীণ নথির সূত্র মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, মেটার প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি ঝুঁকিপূর্ণ ভুয়া বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয়। সেখান থেকে প্রতিষ্ঠানটির ২০২৪ সালের মোট রাজস্বের প্রায় ১০ শতাংশ আয় এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, মেটার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত অ্যাড-মেকিং টুল স্ক্যামারদের এসব প্রতারণামূলক কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারে সহায়তা করেছে।
আদালতের নথিতে বলা হয়, অনেক ক্ষেত্রে প্রবীণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে এসব বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন দেখানো হতো। পাশাপাশি সুপরিচিত ব্যাংক, খ্যাতনামা ব্যক্তি কিংবা স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত ভুয়া তথ্য উপস্থাপন করেও ব্যবহারকারীদের প্রতারিত করার প্রমাণ পেয়েছে তদন্তকারী দল।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











