পোল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে তিন বছরের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর

২৮ অক্টোবর ২০২৬ - ১২:৪৫
2 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
পোল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে তিন বছরের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর
ছবি: সংগৃহীত

পোল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে এবং নিরাপত্তা অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করতে তিন বছরের একটি নতুন সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। মঙ্গলবার পোল্যান্ডের রাজধানী ওয়ারশতে দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিটি সম্পাদিত হয়।

​চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো দুই দেশের মধ্যকার কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করা এবং আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি আদান-প্রদান। এর আওতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ড্রোন প্রযুক্তি, ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা এবং সমরাস্ত্রের আধুনিকায়ন খাতে যৌথভাবে কাজ করবে পোল্যান্ড ও যুক্তরাজ্য। এছাড়াও যৌথ সামরিক মহড়ার মাধ্যমে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা ও প্রস্তুতি বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

​বৈঠকে পোল্যান্ডের উপপ্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিস্লাভ কোসিনিয়াক-কামিশ জানান, এই অংশীদারত্ব চুক্তির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে মিচনিক নৌযান নির্মাণ কর্মসূচি, নারেভ ও পিলিকা প্রকল্পের মাধ্যমে সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ১৫৫ মিলিমিটার গোলাবারুদ উৎপাদনে দেশীয় উৎপাদন লাইন প্রস্তুত করা।

​অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় দুই দেশের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রতিশ্রুতির বাস্তব রূপ হলো এই চুক্তি। স্বাধীনতা ও স্বৈরশাসনের এই দ্বন্দ্বে যুক্তরাজ্য ও পোল্যান্ড কখনোই দর্শক হয়ে বসে থাকবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

​আলোচনাসভায় ইউক্রেন সংকটের পাশাপাশি পোল্যান্ডে রাশিয়ার সম্ভাব্য হাইব্রিড আক্রমণ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী এসব আক্রমণকে রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে তুলনা করেন। বৈঠকে উভয় দেশই ইউক্রেনের প্রতি তাদের রাজনৈতিক ও সামরিক সমর্থন অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে।

​পাশাপাশি, ইউরোপের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর পক্ষে মত দিলেও যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ দিয়ে নয়, বরং ন্যাটো ও ট্রান্সআটলান্টিক জোটের সম্পর্ক আরও জোরালো করার ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রীরা। এদিকে, চলমান ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে পরবর্তী দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে ক্রেমলিন সূত্রে জানা গেছে। তবে ভূখণ্ড ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত মূল বিতর্কিত বিষয়গুলোর সুরাহা এখনো হয়নি।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0