সাইবার হামলার মুখে জাপানি কোম্পানির ক্ষতিপূরণ প্রদান, জিএমও ইন্টারনেটের শেয়ার পতন

২৬ অক্টোবর ২০২৬ - ১০:০৪
4 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
সাইবার হামলার মুখে জাপানি কোম্পানির ক্ষতিপূরণ প্রদান, জিএমও ইন্টারনেটের শেয়ার পতন
ছবি সংগৃহীত

জাপানের অর্থনীতিতে একের পর এক সাইবার হামলার ঘটনা ঘটায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ দিতে শুরু করেছে দেশটির বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি অনলাইন সেবা ব্যাহত হওয়া এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

​জিএমও ইন্টারনেট গ্রুপ জানিয়েছে, তাদের বৈদেশিক মুদ্রা বা ফরেক্স ট্রেডিং সেবায় সাইবার হামলার পর অননুমোদিত প্রবেশের কারণে গ্রাহকদের যে ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রধান নির্বাহী (সিইও) মাসাতোশি কুমাগাই গত রবিবার নিজের ব্লগ পোস্টে জানান, গুডউইল বা শুভেচ্ছার নিদর্শন স্বরূপ সব গ্রাহককে ৫ হাজার ইয়েন (৩২ ডলার) করে দেওয়া হবে।

​এদিকে, পিএইচপি (PHP) প্রোগ্রামিং ভাষার ত্রুটির কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার গত শুক্রবার জানিয়েছে, প্রযুক্তিসিস্টেমের দুর্বলতা চিহ্নিত করতে তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহার করে সাইবার হামলার অনুকরণ বা সিমুলেশন করার জন্য একটি বিশেষ টিম গঠন করবে।

​সাইবার হামলার জেরে জিএমও ইন্টারনেটের শেয়ার দর প্রায় ১৪ শতাংশ কমে চার মাসের সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। গত শুক্রবার বাজার বন্ধের সময় কোম্পানিটির বাজারমূল্য ছিল ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। তবে ওই দিন টোকিওর বেঞ্চমার্ক সূচক শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল।

​বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই ব্যবহার করে সফটওয়্যারের দুর্বলতা খোঁজা থেকে শুরু করে ফিশিং ক্যাম্পেইন চালানোর কাজগুলো স্বয়ংক্রিয় হওয়ায় সাইবার অপরাধ আরও দ্রুত, সস্তা এবং শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। গত সপ্তাহে পিএইচপি প্রোগ্রামিং ভাষার গুরুতর ত্রুটি প্রকাশ্যে আসার পর জাপান, ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের সরকারি ও বেসরকারি ওয়েবসাইটগুলোর বিরুদ্ধে লাখ লাখ হ্যাকিংয়ের চেষ্টা চালানো হয়।

​জিএমও জানিয়েছে, চলতি মাসে সাইবার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চালুর পর তারা জাপানি সরকারের কাছে এই হামলায় সাইবার ডিফেন্স বা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োগের অনুরোধ জানিয়েছে। অন্যদিকে, হ্যাকাররা হামলার দায় স্বীকার করে অর্থ দাবি করার পাশাপাশি দাবি না মানলে কোম্পানি ও গ্রাহকের তথ্য ফাঁস করার হুমকি দিয়েছিল। তবে জিএমও সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে পুলিশসহ অন্যান্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে বিষয়টি মোকাবিলা করছে।

​গ্রাহকদের ছয় মাস ধরে বিনামূল্যে বিকল্প সেবা দেওয়ার ঘোষণা দিলেও, এই ক্ষতিপূরণ ও শুভেচ্ছামূলকের কারণে কোম্পানির আয়ের ওপর ঠিক কতটুকু প্রভাব পড়বে তা এই মুহূর্তে হিসাব করতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি।

​তথ্য সুরক্ষা খাতের দুর্বলতা:

সাম্প্রতিক সাইবার হামলার মাত্রা জাপানি কোম্পানিগুলোর গ্রাহকদের তথ্য সুরক্ষার সক্ষমতার দুর্বলতাগুলো প্রকাশ করে দিয়েছে। ট্রেন্ডএআই-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ৭২৩টি সাইবার নিরাপত্তার ঘটনা ঘটেছে, যা ২০২৪ ও ২০২৫ সালের পুরো বছরের মোট ঘটনাকেও ছাড়িয়ে গেছে।

​ইএসইটি (ESET) জাপানের প্রেসিডেন্ট সাতোশি নাগানো জানান, এই প্রতিবেদনগুলোতে একদিকে যেমন সংস্থাগুলোর মুখোমুখি হওয়া হুমকিগুলো ফুটে উঠেছে, তেমনই অন্যদিকে এমন অনেক ঘটনা সামনে এসেছে যা আগে হয়তো নজর এড়িয়ে যেত, কম তদন্ত হতো কিংবা গোপন থাকত।

​এদিকে, টাইমস কার-শিয়ারিং সেবা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান পার্ক২৪ (Park24) জানিয়েছে, ব্যক্তিগত ডেটা ফাঁসের ঘটনার পর তারা গ্রাহকদের ৩ হাজার ইয়েন করে পরিশোধ করবে। কোম্পানিটি নিবন্ধন যাচাইয়ের কাজ শেষ হওয়ার পর আর পরিচয়পত্রের ছবি সংরক্ষণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই হামলার জবাব ও ক্ষতিপূরণ বাবদ তাদের ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ইয়েন অতিরিক্ত লোকসান হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

​মুডিস রেটিংসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত সম্পদশালী কোম্পানিগুলো শক্তিশালী প্রতিরক্ষায় বিনিয়োগের মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলা করতে পারবে। তবে যাদের প্যাচিংয়ের চর্চা দুর্বল, তারা আরও পিছিয়ে পড়তে পারে; বিশেষ করে যাদের বড় ডিজিটাল নেটওয়ার্ক রয়েছে এবং সাইবার হামলার ঝুঁকি বহুগুণ বেশি।

সুত্র : রয়টার্স

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0