মোবাইল-গাড়ি ছাড়াই যে দ্বীপে হারিয়ে যান পর্যটকরা
কানাডার ল্যাব্রাডর অঞ্চলের ব্যাটল হারবার একসময়ে ছিল জমজমাট মৎস্যশিল্পের প্রাণকেন্দ্র। লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা কড মাছের বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে মুখর থাকা এই দ্বীপটিতে এখন আধুনিক সভ্যতার কোনো ছোঁয়া নেই। নেই কোনো গাড়ি কিংবা মোবাইল নেটওয়ার্কের সুব্যবস্থা। তবুও অদ্ভুত এক টানে এই নিরিবিলি দ্বীপে ছুটে যান পর্যটকরা। আধুনিক জীবনের যান্ত্রিকতা ও কোলাহল থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে তারা ফেরিতে চড়ে পাড়ি জমান এই দ্বীপে, ঘুরে দেখেন পুরোনো ঔপনিবেশিক আমলের ভবনগুলো এবং অনুভব করেন অতীতের দিনগুলোর অমলিন স্মৃতি।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ১৭৭০-এর দশকে ব্রিটিশ বণিক জন স্লেডের হাত ধরে এই দ্বীপের গোড়াপত্তন ঘটে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ল্যাব্রাডরের সমৃদ্ধ মৎস্য খাতের অন্যতম প্রধান প্রবেশদ্বারে রূপ নেয় ব্যাটল হারবার। এখানে লবণ দিয়ে সংরক্ষিত কড মাছ ইউরোপ ও ক্যারিবীয় অঞ্চলসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হতো। একপর্যায়ে এটি আন্তর্জাতিক বাজারে সংরক্ষিত মাছের অন্যতম বড় বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হয়।
সেসময় সমৃদ্ধ এই দ্বীপে আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অংশ হিসেবে হাসপাতাল, স্কুল, গির্জা ও বেতারকেন্দ্র গড়ে উঠেছিল। এখানকার স্থায়ী জনসংখ্যা প্রায় তিনশ হলেও মাছ ধরার মৌসুমে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটত। পাল তোলা জাহাজ বা স্কুনারে বসবাসকারী জেলেদের ‘ফ্লোটার’ এবং তীরে অস্থায়ী কুঁড়েঘরে থাকা জেলেদের ‘স্টেশনর’ বলা হতো।
তবে সময়ের পালাবদলে এই সমৃদ্ধি বেশি দিন টেকেনি। ১৯৩০ সালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড দ্বীপটিকে বিপর্যস্ত করে তোলে। এরপর মাছের উৎপাদন হ্রাস পাওয়া এবং ষাটের দশকের প্রাদেশিক পুনর্বাসন নীতির কারণে জনজীবন সংকুচিত হতে থাকে। সত্তরের দশকের মধ্যেই দ্বীপটির শেষ স্থায়ী বাসিন্দারাও পাট চੁকিয়ে চলে যান। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালের ২ জুলাই কানাডা সরকার কড মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে দ্বীপটির মৎস্য অর্থনীতির চিরতরে অবসান ঘটে।
বর্তমানে সংরক্ষিত এই দ্বীপটি একটি ট্রাস্টের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয় এবং বছরের কেবল গ্রীষ্মকালীন তিন মাস পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়। ঘাটে পৌঁছানোর পর কাঠের পাটাতন ধরে নামলেই অতীতের জেলে ও ব্যবসায়ীদের কার্ডবোর্ড নির্মিত জীবন্ত অবয়ব চোখে পড়ে, যা পর্যটকদের মনে করিয়ে দেয় ফেলে আসা সোনালী দিনগুলোর কথা। আধুনিকতার ব্যস্ততা ছেড়ে ল্যাব্রাডরের এই নিস্তব্ধ ও ঐতিহাসিক দ্বীপটি পর্যটকদের মাঝে উপহার দিচ্ছে ভিন্নধর্মী এক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











