১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলছে সেন্টমার্টিন
দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর অবশেষে টেকনাফের প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমণের ওপর থেকে বিধিনিষেধ শিথিল হচ্ছে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে দর্শনার্থীদের জন্য দ্বীপটি উন্মুক্ত করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পর্যটন চলাচলের সুযোগ পাওয়ার খবর পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এর মাধ্যমে আগামী পাঁচ মাস তাদের আয়-রোজগার বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।
সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী পহেলা নভেম্বর ২০২৬ থেকে ১৫ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে ভ্রমণ করতে পারবেন পর্যটকরা। তবে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে ৩ হাজার দর্শনার্থী দ্বীপে যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। রোববার পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ-২ শাখা থেকে জারি করা এক চিঠিতে সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সিনিয়র সহকারী সচিব সাবরীনা রহমান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে আন্তমন্ত্রণালয় সভার গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পর্যটন শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী জানান, আগামী মাসের শুরু থেকে কক্সবাজার থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচলের বিষয়ে তারা সরকারের পরিপত্র পেয়েছেন। সে অনুযায়ী তারা প্রস্তুতি চালাচ্ছেন এবং ভ্রমণকারীদের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ নিচ্ছেন।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
- কক্সবাজারের চকরিয়ায় বাস-ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে ২ যুবকের মৃত্যু, আহত একাধিক
- কক্সবাজারে হিমছড়ি সৈকতে গোসলে নেমে প্রাণ গেল ৩ পর্যটকের, নিখোঁজ ২
- কক্সবাজারে প্রায় ২ হাজার আইফোনসহ চীনের ৬ নাগরিক আটক, সাইবার প্রতারণার অভিযোগ
- কক্সবাজারে বারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত ২, অনুমোদনহীনতার অভিযোগে হোটেল সিলগালা
- টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ, মিয়ানমারের ১ সেনাসদস্য ও ২ পুলিশ আটক
দ্বীপের সার্বিক অর্থনীতি পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এ সিদ্ধান্তে আনন্দিত সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা। সেন্টমার্টিনের বাসিন্দা জয়নাল আবেদিন জানান, পহেলা নভেম্বর থেকে দ্বীপবাসীর ব্যস্ততা বাড়বে এবং এতে তাদের অর্থনৈতিক সংকট অনেকাংশে দূর হবে।
একই সুর ফুটে উঠেছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কণ্ঠেও। সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, জীবিকার প্রধান মাধ্যম পর্যটন হওয়ায় গত দুই বছর কঠোর বিধিনিষেধের কারণে সেন্টমার্টিনবাসী বেশ কষ্টে দিন কাটিয়েছেন। এবার টানা পাঁচ মাস সীমিত পরিসরে পর্যটন কার্যক্রম চালু রাখার সুযোগ দেওয়ায় তিনি সরকারের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এদিকে পর্যটন মৌসুমে সেন্টমার্টিনের সংবেদনশীল পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার বিষয়টিতে জোর দেওয়া হয়েছে। দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ যেন কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য কঠোর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











