কক্সবাজারে বারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত ২, অনুমোদনহীনতার অভিযোগে হোটেল সিলগালা

২৮ আগস্ট ২০২৬ - ১৩:১৭
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
কক্সবাজারে বারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে নিহত ২, অনুমোদনহীনতার অভিযোগে হোটেল সিলগালা
ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার শহরের ঝাউতলা এলাকায় একটি বারে দু’পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দুই যুবক নিহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে শহরের ‘রেনেসাঁ হোটেল’-এর দোতলায় অবস্থিত বারে এ সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

​নিহত যুবকেরা হলেন—কক্সবাজার শহরের মধ্যম নুনিয়াছড়া এলাকার বাসিন্দা নাজিবুল হক রাশেদ (২৮) এবং বিজিবি ক্যাম্প এলাকার সোলাইমান ওরফে সালমান (২৬)।

​তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে সংঘাতের শুরু

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে রেনেসাঁ হোটেলের বারে বসে কয়েকজন যুবক মদ পান করছিলেন। একপর্যায়ে সামান্য বিষয় নিয়ে রাশেদ ও সালমান গ্রুপের মধ্যে তীব্র তর্কবিতর্ক হয়। এর জের ধরে উভয় পক্ষই বাইরে থেকে বাড়তি লোক ডেকে এনে দেশীয় অস্ত্র ও ভাঙা কাচের বোতল নিয়ে একে অপরের ওপর হামলে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে ভাঙা গ্লাস ও ছুরির এলোপাতাড়ি আঘাতে রাশেদের গলা ও পেটে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্মরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

​গণপিটুনি ও চিকিৎসাধীন অবস্থায় দ্বিতীয় মৃত্যু

এদিকে রাশেদকে হত্যার অভিযোগে সালমানকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন উপস্থিত জনতা। পুলিশ প্রহরায় প্রথমে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সালমানেরও মৃত্যু হয়।

​তবে স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, রাশেদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তার পক্ষের লোকজন সালমানকে হাসপাতাল বা এর আশপাশ এলাকা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে পুনরায় মারধর করে, যার ফলে তার মৃত্যু ঘটে।

​বার সিলগালা ও পুলিশি আইনি পদক্ষেপ

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. অহিদুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে বারটি কোনো বৈধ অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। তদন্তের স্বার্থে এবং ঘটনাস্থলের আলামত সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে বর্তমানে বারটি বন্ধ ঘোষণা করে সিলগালা করা হয়েছে।

​তবে পুলিশের এ দাবি অস্বীকার করে রেনেসাঁ হোটেলের ব্যবস্থাপক ফয়েজুল হক জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত তাদের বারের লাইসেন্স যথারীতি নবায়ন করা রয়েছে।

​কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, নিহতদের মরদেহের ময়নাতদন্তের কাজ চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। বারের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0