রাষ্ট্র সবার, সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু বলে কিছু নেই: প্রধানমন্ত্রী
মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে দেশের মানুষ ধর্মীয় পরিচয়কে গুরুত্ব না দিয়ে কেবল দেশমাতৃকার টানেই লড়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, দেশে সংখ্যাগুরু কিংবা সংখ্যালঘু বলে কোনো ভেদাভেদ নেই; সব নাগরিকের একক ও মূল পরিচয় হলো তাঁরা সবাই বাংলাদেশি। ধর্ম যার যার নিজস্ব ব্যাপার হলেও রাষ্ট্র সবার জন্য সমান। আর এই রাষ্ট্রে প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জেএম সেন হলের দুর্গাপূজামণ্ডপে সনাতন ধর্মাবলম্বী সম্প্রদায়ের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত সেই স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশ নেওয়ার সময় কেউ কারও ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাননি। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ কিংবা খ্রিষ্টান—এমন কোনো বিভেদ সেদিন ছিল না। সবার একমাত্র লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা এবং সেই মহান ব্রত নিয়েই সবাই একাত্তরে রণাঙ্গনে লড়াই করেছিলেন।
পরবর্তী সময়ে দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, গণতন্ত্র যখনই বিপন্ন হয়েছে, তখন ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মীরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে রাজপথে নেমেছেন। জনগণের মৌলিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের এসব লড়াইয়েও ধর্মের কোনো বা বিচার করা হয়নি, সবাই কেবল একটি অধিকারভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক সমাজের জন্যই সংগ্রাম করেছেন।
সবশেষ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সব শ্রেণি-পেশা এবং সব বয়সের মানুষ সেদিন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমে এসেছিলেন। তরুণ, যুবক, শিশু থেকে শুরু করে মায়েরা পর্যন্ত দলমত নির্বিশেষে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন। সে সময় স্বৈরাচারের গুলিতে আহত বা শহীদ হওয়া ভাইদের হাসপাতালে নেওয়ার সময় কেউ তাদের ধর্মীয় পরিচয় খোঁজেননি। এমনকি চিকিৎসকেরাও হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সময় রোগীর ধর্ম বিবেচনা করেননি। সবার মধ্যেকার এই পারস্পরিক অসাম্প্রদায়িক সহাবস্থান ও মানবিকতাই প্রমাণ করে যে, দেশের প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার সম্পূর্ণ সমান।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











