ফ্রান্সের পর বড় সংকটের মুখে যুক্তরাষ্ট্র? নেপথ্যে রয়েছে দুই বড় কারণ

২০ অক্টোবর ২০২৬ - ২৩:১৯
2 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
ফ্রান্সের পর বড় সংকটের মুখে যুক্তরাষ্ট্র? নেপথ্যে রয়েছে দুই বড় কারণ
ছবি সংগৃহীত

ফ্রান্সের অর্থনীতিতে চলা বর্তমান অস্থিরতা এবং অতিরিক্ত ঋণের চাপ ইউরোপজুড়ে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, এই সংকটের ধাক্কা এবার পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্রেও আঘাত হানবে কি না। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ঋণের অবস্থাও বেশ শোচনীয়। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন অর্থনীতি এই মুহূর্তে ফ্রান্সের মতো সরাসরি ধসের মুখে না থাকলেও প্রধানত দুটি কারণে অদূর ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

​প্রথমত, আকাশচুম্বী বাজেট ঘাটতি ও ঋণের পাহাড়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণের পরিমাণ ৩২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা দেশটির বার্ষিক মোট উৎপাদনের প্রায় সমান। এর পাশাপাশি বার্ষিক বাজেট ঘাটতি ২ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা মোট উৎপাদনের ৬ শতাংশের বেশি। এই বিশাল ঋণের সুদ পরিশোধ করতেই যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতি বছর ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করতে হয়, যা ফেডারেল বাজেটের প্রায় ১৪ শতাংশ। অর্থাৎ সংগৃহীত করের প্রতি সাত ডলারের এক ডলারই চলে যাচ্ছে সুদের পেছনে। ইউরোপের দেশগুলো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবলেও মার্কিন রাজনীতিতে এ বিষয়ে তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

​দ্বিতীয়ত, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দল ও ঋণ সীমার ঝুঁকি। বৈশ্বিক রিজার্ভ কারেন্সি হিসেবে মার্কিন ডলারের আধিপত্য এবং এআই খাতের বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি বর্তমানে দেশটির অর্থনীতিকে কিছুটা সুরক্ষা দিচ্ছে। তবে আগামী বছর দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দৃশ্যপটে বড় বিপদ লুকিয়ে আছে। ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আইনগত ঋণ সীমা বা ডেট সিলিং আবার পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রেক্ষাপটে আইনপ্রণেতারা ঋণ বাড়াতে সম্মত না হলে দেশটি কৃত্রিম ও মারাত্মক অর্থনৈতিক খেলাপির মুখে পড়তে পারে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0