বিশ্ববাজারে আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম, আউন্স পার ৪ হাজার ডলার

২৬ অক্টোবর ২০২৬ - ১৭:০৭
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
বিশ্ববাজারে আবার বাড়ল স্বর্ণের দাম, আউন্স পার ৪ হাজার ডলার
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হ্রাস পাওয়ায় মূল্যস্ফীতি সংক্রান্ত উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। এর ইতিবাচক প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার ডলারের কোটা পার করেছে। আগামী সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’-এর মুদ্রানীতিবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগেই মূল্যবান এই ধাতুর দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেল।

​সোমবার (২৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় দুপুর ৩টা ২৪ মিনিটে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৪.৪৯ ডলারে গিয়ে পৌঁছায়। এর আগে গত শুক্রবার দাম কমে ৩ হাজার ৯৭৫ ডলারে নেমেছিল, যা ছিল গত বছরের ২০ জুলাইয়ের পর সর্বনিম্ন দর। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বরে সরবরাহের চুক্তিতে স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ০.৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৮.৪০ ডলারে স্থির হয়।

​বাজার বিশ্লেষক সংস্থা ইউবিএসের (UBS) বিশ্লেষক জিওভান্নি স্তাউনোভো জানান, অনেক বিনিয়োগকারী ৪ হাজার ডলারের এই স্তরটিকে স্বর্ণ ক্রয়ের জন্য একটি বড় সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করছেন। অতীতেও এই স্তরটি বাজারে ভালো সাপোর্ট জুগিয়েছে, যার ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কেনাকাটার প্রবণতা বেড়েছে।

​তবে স্তাউনোভো এটিও উল্লেখ করেন যে, জ্বালানি তেলের দাম কমা স্বর্ণের বাজারকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও আগামী ডিসেম্বরে এবং পরবর্তী বছরে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন শঙ্কা দামে বড় ধরনের বৃদ্ধিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চলতি সপ্তাহের বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রাখা হলেও ভবিষ্যতে তা বৃদ্ধির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

​বাজার সংক্রান্ত সিএমই গ্রুপের ‘ফেডওয়াচ টুল’-এর ডেটা অনুযায়ী, চলতি বুধবার ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়াবে এমন সম্ভাবনা ব্যবসায়ীরা মাত্র ৯ শতাংশ দেখছেন। তবে ডিসেম্বরের বৈঠকে তা বৃদ্ধির সম্ভাবনা প্রায় ৮০ শতাংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাধারণত সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের মতো আয়বিহীন সম্পদে বিনিয়োগের সুযোগব্যয় বেড়ে যায়, যা এর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ কিছুটা কমিয়ে দেয়।

​অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারের চিত্রে দেখা যায়, গত সপ্তাহে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ স্থানে ওঠার পর সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের ফিউচার মূল্য প্রায় ২ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ১১৪ ডলারে নেমে এসেছে। তেলের দাম কমার ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ কমতে পারে, যা ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ব্যাংক অব জাপানের মতো বৈশ্বিক ব্যাংকগুলোর সুদের হার সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

​বর্তমানে বিনিয়োগকারীরা আগামী ২৯ অক্টোবর প্রকাশ হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের অক্টোবর মাসের ‘ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচক’ (পিসিই)-এর তথ্যের জন্য অপেক্ষা করছেন। মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশে নামিয়ে আনার ক্ষেত্রে এই সূচকটিকে ফেডারেল রিজার্ভ অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

​এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট মার্কেটে রুপার দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৩.৯৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে প্লাটিনামের দাম ০.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৫৪৭ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.১ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪৩.৪৭ ডলারে নেমেছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0