সার্বিয়ায় ছাত্র আন্দোলনের কাছে হার মানলেন দীর্ঘদিনের নেতা আলেকসান্দার ভুচিচ

২৬ অক্টোবর ২০২৬ - ১২:৫৩
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
সার্বিয়ায় ছাত্র আন্দোলনের কাছে হার মানলেন দীর্ঘদিনের নেতা আলেকসান্দার ভুচিচ
ছবি সংগৃহীত

সার্বিয়ার সার্বজনীন জাতীয় নির্বাচনে ১২ বছরের দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটিয়ে পরাজিত হয়েছেন বর্তমান নেতা আলেকসান্দার ভুচিচ। রোববারের নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন একটি বিরোধী আন্দোলন নিরঙ্কুশ বিজয়ের পথে রয়েছে। ভোটের প্রাথমিক ও বেসরকারি ফল প্রকাশের পরপরই ভুচিচ নিজে পরাজয় স্বীকার করে নেন।

​নির্বাচনের প্রাথমিক হিসাব তুলে ধরে আলেকসান্দার ভুচিচ জানান, চূড়ান্ত ফলাফল না এলেও দেখা যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা বিপুল আসনে জয়ী হতে চলেছে। ২৫০ আসনের সার্বীয় সংসদে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের প্যানেল প্রায় ১৩৫ থেকে ১৪০টি আসন পেতে পারে। অন্যদিকে, তার নিজ দল সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি (এসএনএস) ১০৫টি আসনে নেমে আসতে পারে। নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা সিইএসআইডি ও আইপিএসপিএস-এর নমুনাভিত্তিক গণনায়ও শিক্ষার্থীদের ১৩৮টি আসন ও ডানপন্থি শাসক দলকে ১০৪টি আসন পাওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বাকি আসনগুলো জাতিগত সংখ্যালঘু দলগুলোর মধ্যে ভাগ হয়ে যেতে পারে।

​ভুচিচের পরাজয় স্বীকারের খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে রাজধানী বেলগ্রেডসহ দেশের নানা প্রান্তে উল্লাসে মেতে ওঠেন সাধারণ মানুষ। রাজপথে আন্দোলনকারী সমর্থকেরা একে অপরকে কোলাকুলি করেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সাথে করমর্দন করেন এবং যানবাহনের হর্ন বাজিয়ে জয় উদ্‌যাপন করেন। শিক্ষার্থীরা বেলগ্রেডের কার্যালয়ে ‘বিজয়, বিজয়’ স্লোগানে প্রকম্পিত করেন। ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বেলগ্রেড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রাদোমির সাইচিচ বলেন, “আজ রাতে দেশবাসীর প্রকৃত কণ্ঠস্বর শোনা গেছে। আজকের দিনটি উল্লাসের, আর আগামী দিন থেকে আমরা নতুন ভবিষ্যৎ গড়ার কাজে নামব।”

​নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের বরাতে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক সাধারণ ভোটার ভোট দিয়েছেন। সিইএসআইডি ও ইপসোসের তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৭টা পর্যন্ত সার্বিয়ায় ৬৭.৬ শতাংশ ভোট সংগৃহীত হয়েছে। ১৯৯২ সালে সাবেক যুগোস্লাভিয়ার ভাঙনের পর এটিই দেশটির সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতির হার। ভোটারদের দীর্ঘ লাইনের কারণে কেন্দ্রগুলোতে দু’ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে মানুষকে রায় দিতে হয়েছে।

​এই ঐতিহাসিক গণজাগরণের পেছনে ছিল ২০২৪ সালের নভেম্বরের এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। নোভি সাদ রেলস্টেশনের ছাদ ধসে ১৬ জনের করুণ মৃত্যুর পর অবকাঠামো নির্মাণে দুর্নীতি ও অবহেলার অভিযোগে রাজপথে নামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে তা পুরো সরকারবিরোধী এক ব্যাপক গণআন্দোলনে পরিণত হয়। ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে শিক্ষার্থীরা ২৫০ সদস্যের পার্লামেন্টের জন্য শিক্ষক, ক্রীড়াবিদ ও কৃষকদের সমন্বয়ে প্রাতিষ্ঠানিক বিকল্প প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেন। তাদের মূল লক্ষ্য ছিল দেশের ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা এবং প্রকৃত গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা।

​যদিও নির্বাচনকালীন সময় নানা রাজনৈতিক উত্তেজনা, নজরদারি ও গণমাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ছিল। এছাড়া কিছু ভোটকেন্দ্রে ব্যালটের ছবি তোলা, প্রভাব বিস্তার ও ভোটারদের কাছে অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগ তুলেছে বিভিন্ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা। তবে সব কাটিয়ে ইউরোপজুড়ে তরুণ প্রজন্মের এই গণআন্দোলনের বিজয় গণতান্ত্রিক রাজনীতির ধারায় বিশেষ ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0