উত্তেজনায় ফুটছে কোরীয় সীমান্ত: জাতিসংঘে চিঠি চালাচালি ও ভারী অস্ত্র মোতায়েন

২৬ অক্টোবর ২০২৬ - ১৫:৩৩
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
উত্তেজনায় ফুটছে কোরীয় সীমান্ত: জাতিসংঘে চিঠি চালাচালি ও ভারী অস্ত্র মোতায়েন
ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাল্টাপাল্টি চিঠি প্রেরণ এবং সীমান্তে উত্তর কোরিয়ার ভারী সামরিক কামান ও সাঁজোয়া যান দৃশ্যমান হওয়ার পর দুই কোরিয়ার মধ্যকার উত্তেজনা চরম রূপ ধারণ করেছে। সাম্প্রতিক এক স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা সিউল সাজিয়েছে বলে পিয়ংইয়ং নতুন করে জাতিসংঘের কাছে পাঠানো চিঠিতে জোরালো অভিযোগ তুলেছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও দক্ষিণ কোরিয়ার ইউনহাপ এজেন্সির বরাতে এই তথ্য জানা গেছে।

​সোমবার দক্ষিণ কোরিয়ার একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থেকে সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি পরিদর্শন করে রয়টার্সের প্রতিনিধি নিশ্চিত করেন যে, সীমান্তের খুব কাছাকাছি কৌশলগত অবস্থানে উত্তর কোরিয়ার একটি ১২২ মিলিমিটারের স্বচালিত হাউইটজার কামান প্রকাশ্যেই বসানো রয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার দিকে নল তাক করা অবস্থায় উত্তর কোরিয়ার তিনটি সাঁজোয়া যান এবং অসামরিক অঞ্চলের (ডিএমজেড) ভেতরে ২০ থেকে ৩০ জন সেনাকে বেড়া নির্মাণের কাজ করতে দেখা গেছে। সীমান্তে এমন ভারী অস্ত্রের প্রকাশ্য প্রদর্শন অত্যন্ত বিরল ঘটনা বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।

​সিউলের কিয়ংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিম ইউল-চুল জানান, উত্তর কোরিয়ার এ ধরনের নজিরবিহীন সামরিক প্রদর্শন স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, তারা আলোচনার পরিবর্তে শক্তির প্রয়োগের মাধ্যমেই তাদের সীমান্তনীতি বাস্তবায়ন করতে আগ্রহী।

​এর আগে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানায়, রবিবার জাতিসংঘে প্রেরিত চিঠিতে পিয়ংইয়ং দাবি করেছে যে, সীমান্তে তাদের চলমান নির্মাণকাজকে বেআইনি সামরিক অনুপ্রবেশ হিসেবে তুলে ধরতে সিউল স্থলমাইনের ঘটনাকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে। সার্বভৌমত্বে আঘাত হানলে আত্মরক্ষামূলক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এর সব দায় দক্ষিণ কোরিয়াকে নিতে হবে বলে পিয়ংইয়ং সতর্ক করেছে।

​গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়া নিরাপত্তা পরিষদে যে চিঠি দিয়েছিল, মূলত তারই কড়া প্রতিক্রিয়া হিসেবে উত্তর কোরিয়ার এই চিঠি পাঠানো হয়েছে। সিউলের ওই চিঠিতে ২১ সেপ্টেম্বরের ডিএমজেড বিস্ফোরণে উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা মাইনকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। ডিএমজেডের তদারককারী জাতিসংঘ কমান্ডও উত্তর কোরিয়ার মাইন স্থাপনকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বললেও পিয়ংইয়ং শুরু থেকেই তা অস্বীকার করে আসছে।

​দক্ষিণ কোরিয়ার একীকরণ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সোমবার জানান, উত্তর কোরিয়ার চিঠিতে তাদের পুরনো একপেশে অবস্থানেরই পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। তবে হাউইটজার মোতায়েনের বিষয়ে মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। এদিকে বর্তমান সীমান্ত উত্তেজনা প্রশমনে সিউল পিয়ংইয়ংকে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানিয়েছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0