আলমডাঙ্গায় ছাত্রীকে নিপীড়নের অভিযোগে প্রধান শিক্ষক অবরুদ্ধ:পুলিশ হেফাজতে,তদন্ত কমিটি গঠন
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বন্দরভিটা আল হেলাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে অশোভন আচরণ ও অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন স্পর্শের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইনামুলের (৪৫) বিরুদ্ধে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার জেরে বিদ্যালয় চত্বর ও এর আশপাশের এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত শিক্ষককে বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
গত সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয়ের ভেতরে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীর প্রতি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইনামুল অশোভন আচরণ এবং অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি মুহূর্তের মধ্যে জানাজানি হলে শিক্ষার্থীর অভিভাবকসহ স্থানীয় লোকজনের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিদ্যালয়ে ভিড় জমিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে একটি শ্রেণিকক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন, যা মুহূর্তেই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির জন্ম দেয়।
পরিস্থিতি অবনতির দিকে যাওয়ায় খবর পেয়ে গাংনী তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পুলিশ ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে তারা স্থানীয়দের শান্ত করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং অবরুদ্ধ শিক্ষককে নিরাপদে উদ্ধার করে আলমডাঙ্গা থানায় সোপর্দ করেন।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
- আলমডাঙ্গার নতুন বাসষ্টান্ডে ৬ পিচ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুই যুবক গ্রেফতার
- আলমডাঙ্গায় নাগদাহ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বোরহান উদ্দিন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার
- চুয়াডাঙ্গায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের তিন দফা দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ
- আলমডাঙ্গায় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ মাদক কারবারি ও মারামারির মামলার এক আসামি গ্রেফতার
- আলমডাঙ্গায় পুলিশের পৃথক অভিযানে গাঁজা ও মাদকসহ তিনজন গ্রেফতার
এদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষককে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মাঝে আরও কিছু পুরোনো অভিযোগও ডালপালা মেলেছে। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, ওই শিক্ষকের আচরণ ও কর্মকাণ্ড নিয়ে পূর্বেও স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছিল। এমনকি কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন যে তিনি নিয়মিত গাঁজা ও ইয়াবা সেবন করে থাকেন। তবে মাদকের এই বিষয়টির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এই ঘটনার পর থেকে কোমলমতি শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক মহল। তাদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিশুদের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হওয়ার কথা। সেখানে একজন দায়িত্বশীল শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ ওঠা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তারা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য বের করে দোষী শিক্ষকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সচেতন নাগরিক সমাজের অভিমত, প্রশাসনিক তদন্ত কার্যক্রমের পাশাপাশি ভুক্তভোগী শিশুটির শারীরিক ও মানসিক সুরক্ষা সর্বাগ্রে নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে শিশুটির ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও পরিচয় সম্পূর্ণ সুরক্ষা রেখে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক, বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদ কিংবা সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বর্তমানে ঘটনাটির তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











