ইসরায়েল নির্বাচনে নেতানিয়াহু জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোয় সরকার গঠন নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা

০২ নভেম্বর ২০২৬ - ১৯:৩৯
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
ইসরায়েল নির্বাচনে নেতানিয়াহু জোটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোয় সরকার গঠন নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা
ছবি সংগৃহীত

গত ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। ১২০ আসনের নেসেটে (পার্লামেন্ট) সরকার গঠনের জন্য আবশ্যক ৬১টি আসন কোনো পক্ষই অর্জন করতে পারেনি। ফলে দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও নতুন সরকার গঠন নিয়ে নতুন করে ঘোর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

​আলজাজিরার তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে অচলবস্থা দূর করতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দীর্ঘ দর-কষাকষি ও জোট গঠনের আলোচনা চলার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে সমাধান না পাওয়া গেলে ইসরায়েলকে আবার নতুন নির্বাচনের পথেই হাঁটতে হতে পারে।

​চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা গেছে, নেতানিয়াহুপন্থী জোট পেয়েছে মোট ৫৩টি আসন। এর মধ্যে তার নিজ দল লিকুদ ২৭টি আসন লাভ করেছে। জোটের অন্যান্য শরিকের মধ্যে ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম এবং ওতজমা ইয়েহুদিত পেয়েছে ৭টি করে আসন। এ ছাড়া শাস ও রিলিজিয়াস জায়োনিজম উভয়েই ৬টি করে আসন অর্জন করেছে।

​অন্যদিকে, নেতানিয়াহুবিরোধী ইহুদি দলগুলোর জোটের ঝুলিতে গেছে ৪৮টি আসন। বিরোধী শিবিরে সবচেয়ে বেশি ২১টি আসন পেয়েছে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন ইয়াশার পার্টি। জোটের বাকি দলগুলোর মধ্যে বি’ইয়াচাদ ১২টি, দ্য ডেমোক্র্যাটস ৮টি এবং ইসরায়েল বেইতেনু ৭টি আসন পেয়েছে। এ ছাড়া আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো মোট ১৯টি আসনে জয়লাভ করেছে, যার মধ্যে জয়েন্ট লিস্ট ১১টি এবং রা’আম ৮টি আসন নিশ্চিত করে।

​নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ৪ নভেম্বরের মধ্যে চূড়ান্ত ফল প্রত্যয়ন করে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের কাছে জমা দেওয়া হবে। ১০ নভেম্বর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং ১১ নভেম্বরের মধ্যে প্রেসিডেন্ট সরকার গঠনের জন্য একজন মনোনীত সংসদ সদস্যকে দায়িত্ব দেবেন।

​ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু অথবা বিরোধী দলের প্রধান মুখ গাদি আইজেনকট প্রথম দফায় এই আহ্বান পেতে পারেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনথ উল্লেখ করেছে, নেতানিয়াহুকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে কয়েকটি আরব নেতৃত্বাধীন দল আইজেনকটকে সমর্থনের কথা ভাবছে।

​আইনানুযায়ী, মনোনীত প্রার্থী সরকার গড়ার জন্য ২৮ দিন সময় পাবেন, যা প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন বাড়ানো যেতে পারে। প্রথম প্রার্থী ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য কাউকে এই সুযোগ দেবেন। সেটিও ব্যর্থ হলে পার্লামেন্ট সদস্যরা ১৪ দিনের মধ্যে তৃতীয় কাউকে মনোনীত করতে পারবেন। সর্বশেষে কোনো সমাধান না আসলে পার্লামেন্ট বিলুপ্ত করে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। পুরো প্রক্রিয়া চলাকালীন নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী পদে বহাল থাকবেন।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0