এল নিনোর প্রকোপ মোকাবিলায় বলিভিয়ায় জরুরি অবস্থা জারি
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সৃষ্ট এল নিনোর পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে বলিভিয়া সরকার। প্রয়োজনীয় সম্পদ ও জনবল দ্রুত মাঠে নামানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১ নভেম্বর) দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ এই জরুরি ডিক্রিতে স্বাক্ষর করেন। একই সঙ্গে খরা ও বন্যায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোতে উদ্ধারকারী দলের কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ জানান, এল নিনোর প্রভাবে খরা ও বন্যার রূপ অত্যন্ত ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। এই দুর্যোগ সফলভাবে মোকাবিলা করতে দেশের সব খাতের সমন্বিত সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।
সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বলিভিয়ার নয়টি প্রশাসনিক অঞ্চলের মধ্যে ইতিমধ্যে ছয়টিতে খরার মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। এর ফলে প্রায় ৭৮ হাজার পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মারা গেছে ৭৫ হাজারের বেশি গবাদিপশু। পাশাপাশি দেশটিতে নতুন করে বন্যার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সান্তা ক্রুজ অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল।
বলিভিয়ার পাশাপাশি দক্ষিণ আমেরিকার অন্যান্য দেশেও এল নিনোর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রতিবেশী দেশ চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে চলতি অক্টোবরে রেকর্ড পরিমাণে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে, পেরুতে গত মাসে ভয়াবহ দাবানলে কমপক্ষে ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক ও বৈশ্বিক জলবায়ু চক্র, যা সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পর পর সক্রিয় হয়। প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ ও বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ছন্দে পরিবর্তন আসে। চলতি এল নিনো চক্রটি ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ এর তীব্রতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে এবং এর প্রভাব ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে বলে ধারণা করছেন আবহাওয়াবিদরা।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











