অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ব্যর্থতায় ক্ষুব্ধ ওয়ার্নার: কেপটাউনে বড় হারের পর দল পুনর্গঠনের দাবি

০১ নভেম্বর ২০২৬ - ১৫:৫১
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং ব্যর্থতায় ক্ষুব্ধ ওয়ার্নার: কেপটাউনে বড় হারের পর দল পুনর্গঠনের দাবি
ছবি সংগৃহীত

দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে শেষ টেস্ট ম্যাচে বড় ব্যবধানে হেরে সিরিজ হাতছাড়া করায় অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট দলের তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক উদ্বোধনী ব্যাটার ডেভিড ওয়ার্নার। সফরকারী ব্যাটারদের এমন শোচনীয় পারফরম্যান্সকে অত্যন্ত হতাশাজনক ও লজ্জাজনক হিসেবে অভিহিত করে দ্রুত দল পুনর্গঠনের দাবি জানান তিনি।

​কেপটাউনের নিউল্যান্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্টের পঞ্চম দিনে জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার প্রয়োজন ছিল ২৮৮ রান। তবে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সফরকারীদের ইনিংস গুটিয়ে যায় মাত্র ১১১ রানে। ১৭৬ রানের এই বড় পরাজয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হাতছাড়া করে অজিরা। এই হারের ফলে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় অস্ট্রেলিয়াকে পেছনে ফেলে শীর্ষের দিকে এগিয়ে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। একই সঙ্গে অজিদের দল নির্বাচন, বয়স্ক ব্যাটারদের সামর্থ্য ও অভিজ্ঞ পেস আক্রমণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

​ধারাবাহিক ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ধারাভাষ্যে ওয়ার্নার বলেন, এমন ব্যাটিং পারফরম্যান্স কোনোভাবেই অস্ট্রেলিয়ার সমৃদ্ধ ক্রিকেট ঐতিহ্যের সঙ্গে মানানসই নয়। চতুর্থ ইনিংসে ব্যাটারদের মধ্যে লড়াইয়ের বিন্দুমাত্র মানসিকতা ছিল না, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ২৮৮ রান তাড়া করে সিরিজ জেতার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও দায়িত্বহীন শট নির্বাচন করে তা হাতছাড়া করাকে তিনি অমার্জনীয় অপরাধ হিসেবে দেখছেন।

​অনুরূপ সুর শোনা গেছে সাবেক ব্যাটার মার্ক ওয়াহর কণ্ঠেও। ২০০২ সালে এই নিউল্যান্ডসের মাঠেই বড় লক্ষ্য তাড়া করে ম্যাচ জেতা অজি দলের সদস্য ছিলেন তিনি। ওয়াহ মন্তব্য করেন, শেষ দিনের ব্যাটিং ছিল চূড়ান্ত রকমের অপরিণত। টেকনিক থেকে শুরু করে শট নির্বাচন—কোনো জায়গাতেই অজি ব্যাটাররা নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারেননি।

​উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ডেভিড ওয়ার্নার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর থেকেই ওপেনিং পজিশনে স্থায়ী জুটি গড়তে পারছে না অস্ট্রেলিয়া। উসমান খাজার সঙ্গে একাধিক ব্যাটারকে পরখ করা হলেও সমাধান মেলেনি। চলতি সফরে সুযোগ পাওয়া নিক ম্যাডিনসনও নিজের মেলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন। অন্যদিকে তিন নম্বরে মার্নাস লাবুশেনের দীর্ঘদিনের অফ-ফর্ম দলে তাঁর অবস্থান নড়বড়ে করে তুলেছে।

​দীর্ঘ ব্যর্থতার ভিড়ে কিছু ইতিবাচক দিকও ছিল অজি শিবিরে। সিরিজের প্রথম টেস্টে একাদশে ফিরে ১৯০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেছিলেন ম্যাট রেনশ। তৃতীয় টেস্টে ওপেনিংয়ে নেমে ট্রাভিস হেডের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ৭৪ রানের জুটি গড়েন তিনি। পাশাপাশি ঘাড়ে চোট পেয়ে স্টিভ স্মিথ ছিটকে যাওয়ায় সুযোগ পেয়েই দৃষ্টিনন্দন সেঞ্চুরি উপহার দেন জশ ইংলিস, যা নির্বাচকদের নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

​টানা ব্যর্থতা ও সিরিজ হারের পর অধিনায়ক প্যাট কামিন্স একাদশে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় দলে প্রশ্ন ওঠা খুবই স্বাভাবিক। দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিজেদের ঘাটতিগুলো পর্যালোচনা করা হবে এবং জাতীয় দলকে আবারও শীর্ষস্থানে ফেরাতে প্রয়োজনে কৌশল ও একাদশে বড় পরিবর্তন আনা হবে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0