মক্কা প্যাক্টে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে সিরিয়া

০২ নভেম্বর ২০২৬ - ২২:১৯
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
মক্কা প্যাক্টে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে সিরিয়া
ছবি সংগৃহীত

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি 'মক্কা প্যাক্টে' যুক্ত হওয়ার বিষয়টি মূল্যায়ন করে দেখছে সিরিয়া। শনিবার বাহরাইনে আয়োজিত মানামা সংলাপে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত সেশনে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, এই মক্কা জোটে সিরিয়ার অংশগ্রহণের সম্ভাবনা ও দিকগুলো বর্তমানে আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে।

​বিশ্লেষকদের অভিমত, ভবিষ্যতে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে থাকা দক্ষিণ সিরিয়া সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দরকষাকষিতে অবস্থান মজবুত করতে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সামরিক কৌশলগত সমঝোতা বাড়াতে চাইছে দামেস্ক। যাতে পরবর্তীতে কোনো আক্রমণের সম্মুখীন হলে জোটের যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সুবিধা ব্যবহার করা সম্ভব হয়।

​সম্মেলনে আসাদ আল-শাইবানি বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় সিরিয়া এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে একটি যৌথ প্রতিরোধ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, জোটের কোনো এক দেশের ওপর আক্রমণ হলে তা তিন দেশের ওপরই আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে—যা ন্যাটো (NATO)-র যৌথ নিরাপত্তা কাঠামোর অনুরূপ। আলোচনায় তিনি ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে সব দেশের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানান।

​তবে 'সিরিয়া রিপোর্ট'-এর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক সামি আকিল জানান, জোটসংক্রান্ত এই আলোচনাগুলো একেবারে প্রাথমিক ধাপে রয়েছে। অদূর ভবিষ্যতেই দামেস্ক চতুর্থ সদস্য দেশ হিসেবে এই প্যাক্টে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে—এমন সম্ভাবনা বেশ কম। সম্ভাব্য আঞ্চলিক সংঘাতের বিষয়টি মাথায় রেখেই দামেস্ক তাদের কূটনৈতিক ও কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা করে চলছে।

​মূলত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও বিভিন্ন জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই সামরিক আলোচনার উদ্যোগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পাকিস্তানের পাশাপাশি তুরস্কও রিয়াদকে সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছে, তবে ইয়েমেন যুদ্ধে সরাসরি তুর্কি সেনা পাঠানোর বিষয়টি তারা নাকচ করেছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার আমলে সৌদি আরব সিরিয়ার অন্যতম প্রধান আঞ্চলিক মিত্র হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

​সম্প্রতি হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সৌদিতে পদাতিক সেনা পাঠানোর খবর সিরিয়া অস্বীকার করেছে। এ বিষয়ে সামি আকিল মন্তব্য করেন, সিরিয়া যদি এই জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগও দেয়, তাহলেও তাদের ভূমিকা পদাতিক বাহিনীর চেয়ে ১৯৯১ সালের 'অপারেশন ডেজার্ট স্টর্ম'-এর মতো সীমিত সহায়তামূলক কন্টিনজেন্টের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা বেশি।

​অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাইবানি উল্লেখ করেন যে গত দুই বছরেরও কম সময়ে সিরিয়া ভূখণ্ডে ১ হাজারটিরও বেশি ইসরায়েলি বিমান হামলায় বিপুল মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। প্রতিনিয়ত সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ঘটনায় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং অস্ত্র কেবল রাষ্ট্রের অধীনে রাখার দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বরের পূর্ববর্তী অবস্থানে ইসরায়েলি সৈন্য প্রত্যাহার এবং ১৯৭৪ সালের চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0