পেলের জন্মদিনে ফিরে দেখা: ফুটবলের রাজার অধরা ও ঐতিহাসিক ৭ রেকর্ড

২৩ অক্টোবর ২০২৬ - ১৩:৩৩
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
পেলের জন্মদিনে ফিরে দেখা: ফুটবলের রাজার অধরা ও ঐতিহাসিক ৭ রেকর্ড
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব ফুটবলের অনন্য এক নাম এডসন আরান্তেস দো নাসিমেন্তো, যাকে বিশ্ব চেনে ফুটবলের রাজা ‘পেলে’ নামে। ২৩ অক্টোবর এই কিংবদন্তি ফুটবলারের জন্মদিন। তিনবার বিশ্বকাপ জয়ের কালজয়ী ইতিহাস গড়ে যিনি ফুটবলকে পৌঁছে দিয়েছিলেন এক অন্য উচ্চতায়, তার ক্যারিয়ারের এমন কিছু রেকর্ড রয়েছে যা আধুনিক ফুটবলের যুগেও অক্ষত ও অধরা।

​১৯৫৮ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে প্রথম বিশ্বমঞ্চে পদার্পণ করে বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন পেলে। এরপর ১৯৬২ ও ১৯৭০ সালেও ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন তিনি। বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসি কিংবা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ফুটবল মাঠ দাপিয়ে বেড়ালেও পেলের বেশ কিছু ঐতিহাসিক মাইলফলক এখনও স্পর্শ করতে পারেননি।

​পেলের ক্যারিয়ারের কালজয়ী ৭টি মাইলফলক:

​১. সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বকাপজয়ী: ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে সুইডেনের বিরুদ্ধে ফাইনালে মাত্র ১৭ বছর ২৪৯ দিন বয়সে শিরোপা জয়ের স্বাদ পান পেলে। জোড়া গোল করে ব্রাজিলকে ৫-২ ব্যবধানে জয় এনে দেন তিনি। বিশ্বজয়ী দলের সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে এই রেকর্ড আজও তার দখলেই রয়েছে।

​২. একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ: ফুটবল ইতিহাসে পেলে ছাড়া আর কোনো খেলোয়াড়ের তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের ট্রফি ছোঁয়ার রেকর্ড নেই। ১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০—এই তিন আসরে ব্রাজিলের সোনালী দলের সদস্য হিসেবে তিনি ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে গেছেন।

​৩. বিশ্বকাপ ফাইনালে কম বয়সে গোল: ১৯৫৮ সালের ফাইনালে ১৭ বছর ২৪৯ দিন বয়সে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। আন্তর্জাতিক ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে ফাইনাল খেলায় গোলদাতা হিসেবে তিনি এখনও সর্বকনিষ্ঠ।

​৪. বিশ্বকাপে কনিষ্ঠতম হ্যাটট্রিক: ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের বিপক্ষে ১৭ বছর ২৪৪ দিন বয়সে হ্যাটট্রিক করেন পেলে। ম্যাচটিতে ব্রাজিল ৫-২ গোলে জয়লাভ করে। মূল পর্বে সবচেয়ে কম বয়সে হ্যাটট্রিকের রেকর্ডটি ছয় দশকের বেশি সময় ধরে তার ঝুলিতেই আছে।

​৫. হাজারের বেশি ক্যারিয়ার গোল: গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের স্বীকৃতি অনুযায়ী, প্রীতি ও সফর ম্যাচসহ পেলের ক্যারিয়ারে মোট গোলসংখ্যা ১,২৭৯টি। যদিও স্বীকৃত প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের হিসেব নিয়ে ফুটবল বিশ্লেষকদের মাঝে বিতর্ক রয়েছে, তবুও তার গোল করার এই পরিসংখ্যান অনন্য।

​৬. চারটি আসরে গোল করার কৃতিত্ব: ১৯৫৮ থেকে ১৯৭০—টানা চারটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার নজির গড়েছিলেন পেলে। পরবর্তীতে মিরোস্লাভ ক্লোসে, উয়ে জিলার, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসি এই তালিকায় যুক্ত হলেও পেলের এই অর্জন ঐতিহাসিকভাবে সুদূরপ্রসারী।

​৭. ফাইনালে সর্বোচ্চ অ্যাসিস্ট: কেবল নিজে গোল করাই নয়, সতীর্থদের দিয়ে গোল করাতেও ওস্তাদ ছিলেন পেলে। ১৯৫৮ সালের ফাইনালে একটি এবং ১৯৭০ সালের ফাইনালে দুটি—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালে সর্বোচ্চ ৩টি অ্যাসিস্টের অনন্য রেকর্ডটি পেলের দখলে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0