ফ্রান্সে প্রথমবার গবাদিপশুর শামোন্ডা ভাইরাসে মানব মৃত্যুর ঘটনা শনাক্ত

২৩ অক্টোবর ২০২৬ - ০১:১২
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
ফ্রান্সে প্রথমবার গবাদিপশুর শামোন্ডা ভাইরাসে মানব মৃত্যুর ঘটনা শনাক্ত
ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সে প্রথমবারের মতো গবাদিপশুতে সাধারণত সংক্রমিত শামোন্ডা ভাইরাসে আক্রান্ত এক রোগীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় সাধারণ মানুষের জন্য কোনো ধরনের বড় ঝুঁকি বা স্বাস্থ্য সংকট নেই।

​ফরাসি সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ধারণা করা হচ্ছে পূর্ব ফ্রান্সে কামড়ে ছড়ায় এমন এক ধরনের ক্ষুদ্র পতঙ্গ বা মিঞ্জের কামড়ে ওই ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছিলেন। চলতি বছর বসন্ত ও গ্রীষ্মকালে এই অঞ্চলে পশুপালের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছিল। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ষাটোর্দ্ধ ওই ব্যক্তিকে পূর্বে অন্য একটি গুরুতর অসুস্থতার কারণে লিঁও শহরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। স্থানীয় সংবাদপত্র 'লা প্রগ্রে'-এর তথ্য অনুযায়ী, মৃত ওই ব্যক্তি লিঁও এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।

​বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, তারা এই ঘটনার বিষয়ে ফরাসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। জেনেভাভিত্তিক সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমান তথ্য ও সমগোত্রীয় ভাইরাসের সংক্রমণের ইতিহাস পর্যালোচনায় এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এই মুহূর্তে ভাইরাসে ব্যাপক বিস্তারের কোনো আশঙ্কা নেই।

​ফ্রান্সের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রধান গ্রেগরি এমেরি সাংবাদিকদের বলেন, "বিজ্ঞান ও ভাইরোলজির দিক থেকে এটি একটি অভূতপূর্ব ঘটনা। তবে এটি ওই ব্যক্তির মারাত্মকভাবে দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার সঙ্গেই মূলত সম্পর্কিত।" তিনি আরও যোগ করেন, "চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্যের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি কোনো স্বাস্থ্য সতর্কতা বা সংকটের বিষয় নয়।"

​বিশ্ব প্রাণী স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউওএএইচ) তথ্যমতে, শামোন্ডা ভাইরাসটি মূলত ক্ষুদ্র পতঙ্গের কামড়ের মাধ্যমে ছড়ায় এবং সবচেয়ে বেশি দেখা যায় গবাদিপশুতে। তবে ঘোড়া, আলপাকা, ভেড়া ও ছাগলেও এটি পাওয়া যেতে পারে। এমেরি স্পষ্ট করেছেন যে, গবাদিপশু থেকে মানুষে কিংবা মানুষ থেকে মানুষে এই ভাইরাস সংক্রমণের কোনো নজির নেই। গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ভাইরাস রিসার্চের ড. বেন ব্রেনানও উল্লেখ করেছেন যে, শামোন্ডা ভাইরাসের ক্ষেত্রে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি অত্যন্ত সীমিত।

​উল্লেখ্য, ১৯৬৫ সালের মাঝামা সময়ে নাইজেরিয়ায় প্রথম শনাক্ত হওয়া শামোন্ডা ভাইরাসটি চলতি বছরের জুলাই মাসের শেষের দিকে দক্ষিণ জার্মানি, সুইজারল্যান্ড ও পূর্ব ফ্রান্সের অসুস্থ গবাদিপশুর জিনোম টেস্টে ইউরোপে প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করা হয়েছিল। এছাড়া ফ্রান্সের পশুপালনের স্বাস্থ্য নজরদারি বুলেটিন অনুযায়ী, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লিচেনস্টাইন, লুক্সেমবার্গ, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, স্লোভেনিয়া, স্পেন ও জার্সিতেও ভাইরাসটির উপস্থিতি পাওয়া গেছে। পশুপালনের ওপর এই ভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। ফরাসি প্রাণী স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংক্রমিত গবাদিপশুর ডায়রিয়া, দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা এবং ক্ষেত্রবিশেষে জ্বর দেখা দিতে পারে। ফ্রান্সের ৯টি ডেয়ারি খামারে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, এর ফলে দুধ উৎপাদন প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।

সুত্র: রয়টার্স

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0