বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে ৭৭ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা জাপানের

২৩ অক্টোবর ২০২৬ - ১০:০৪
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে ৭৭ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা জাপানের
ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে জাপান। আগামী পাঁচ বছরে দেশটির বেসরকারি খাতে ১ ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন বা প্রায় ৬ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ ব্যবস্থার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করছে তারা। স্থানীয় মুদ্রায় এই অর্থায়নের পরিমাণ প্রায় ৭৭ হাজার ৪৭০ কোটি টাকা।

​জাপানের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়া-র প্রতিবেদনে এই সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে, যার সূত্র ধরে পরবর্তীতে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বৈশ্বিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

​প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যে প্রস্তাবিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ ঘোষণায় এই বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতি স্থান পেতে পারে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন ও কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদারের অংশ হিসেবে জাপানের এই উদ্যোগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে বাংলাদেশকে বিদেশি বিনিয়োগের অন্যতম সম্ভাবনাময় কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করাও এই পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য।

​নতুন এই বিনিয়োগের আওতায় মূল অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বাংলাদেশের অটোমোবাইল শিল্প, উৎপাদন খাত এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নে। এর পাশাপাশি জাপানের খ্যাতনামা ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান সুমিতোমো করপোরেশনসহ যৌথ উদ্যোগে নির্মিত ‘বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোন’-এ জাপানি কোম্পানিগুলোর বাণিজ্যিক উপস্থিতি আরও বাড়াবে। উল্লেখ্য, দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও সহজ করতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

​কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, চার দিনের সরকারি সফরে আগামী ২৬ অক্টোবর জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরের দ্বিতীয় দিন, অর্থাৎ ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক। পরবর্তীতে তাঁর সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজেও দুই দেশের শীর্ষ নেতারা অংশ নেবেন।

​পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম পূর্বাহ্ণে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই কূটনৈতিক সফরে জাপানি বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার সহজ করা, নতুন বিনিয়োগ টানা এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে। তিনি আরও জানান, কৃষি, মৎস্যসম্পদ, দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও সিভিল এভিয়েশনসহ প্রধান ৮টি খাতে সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতা স্মারক (MoU) নিয়ে আলোচনা চলছে, যার মধ্যে ৩ থেকে ৪টি চূড়ান্ত স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল উদ্ভাবনে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পরিসর আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

​স্মরণযোগ্য, মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৩য় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের মতো মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে জাপান শুরু থেকেই বাংলাদেশের প্রধান উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে অবদান রেখে আসছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0