চুয়াডাঙ্গায় শিশু মরিয়মকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ফটিকের মৃত্যুদণ্ড

২০ জুলাই ২০২৬ - ১৪:৩১
প্রকাশিত: ৩ মাস আগে
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
চুয়াডাঙ্গায় শিশু মরিয়মকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ফটিকের মৃত্যুদণ্ড
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের তৃতীয় শ্রণির শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘোষনা। ছবি: সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী মরিয়ম খাতুনকে (১০) ধর্ষণ ও হত্যার দীর্ঘ আড়াই বছর পর চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষনা করা হয়েছে। চার্জশিটভুক্ত একমাত্র আসামি আবুল হোসেন ওরফে ফটিককে (২৯) মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।

​সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে চুয়াডাঙ্গা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোক্তাগীর আলম জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পরপরই কঠোর পুলিশি পাহারায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

​মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর সকাল ১১টার দিকে গোয়ালপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক ইকবাল হোসেনের ছোট দুই মেয়ে মরিয়ম খাতুন ও আছিয়া খাতুন (৮) প্রতিবেশী আরও দুই শিশুকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী হাড়িভাঙ্গা মাঠে শাক তুলতে যায়। দুপুর ১২টার দিকে মরিয়ম ছাড়া বাকি শিশুরা বাড়িতে ফিরে জানায়, মাঠে শাক তোলার সময় এক ব্যক্তি ভ্যান রেখে তাদের কাছে আসে এবং মরিয়মাকে শাক তুলে দেওয়ার কথা বলে নিকটস্থ একটি ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও শিশুটি ফিরে না আসায় তার স্বজনরা মাঠে গিয়ে ভুট্টাক্ষেত থেকে মরিয়মের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে।

​ঘটনার পরপরই নিহত শিশুটির বাবা ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে জীবননগর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলাটির দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর তদন্তকারী কর্মকর্তা জীবননগর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম উপজেলার গয়েশপুর (বড় মসজিদপাড়া) গ্রামের আবু তাহের মোল্লার ছেলে আবুল হোসেন ওরফে ফটিককে আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

​বিচার চলাকালে আসামি চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। এছাড়া সংগৃহীত আলামতের ডিএনএ পরীক্ষাতেও আসামির সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়। আদালত মোট ৩১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে এই সিদ্ধান্ত জানান।

​নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মুন্সি শাহজাহান মুকুল রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রাষ্ট্রপক্ষের উত্থাপিত বস্তুনিষ্ঠ সাক্ষ্য ও আলামতে বিচারক সন্তুষ্ট হয়ে এ দণ্ডাদেশ দিয়েছেন। এই রায়ে বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষ পূর্ণ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0