নারী মরদেহের ময়নাতদন্তে নারী ডোম নিয়োগের নির্দেশ কেন নয়: হাইকোর্টের রুল

১৯ জুলাই ২০২৬ - ১৬:৩০
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
নারী মরদেহের ময়নাতদন্তে নারী ডোম নিয়োগের নির্দেশ কেন নয়: হাইকোর্টের রুল
ছবি : সংগৃহীত

দেশের হাসপাতালগুলোতে নারী মরদেহের ময়নাতদন্ত বা পোস্টমর্টেম সম্পন্ন করতে নারী ডোম নিয়োগের নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আজ রবিবার (১৯ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। আদালতে রিটকারীর পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট মো. মনির উদ্দিন।

​এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মনির উদ্দিন জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন। এতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ (ডিজিএইচএস) সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে। রিট দায়েরের পূর্বে তিনি হাসপাতালগুলোতে অন্তত একজন করে নারী ডোম নিয়োগের দাবি জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে একটি আবেদনও করেছিলেন।

​আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ একটি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ রাষ্ট্র, যেখানে ইসলামসহ সব ধর্মেই নারীর মরদেহের সতর বা পর্দার অন্তরালে রাখার বিধান রয়েছে। ময়নাতদন্ত একটি আইনি প্রক্রিয়া হলেও মৃত নারীর ক্ষেত্রে পরপুরুষের স্পর্শ বা উপস্থিতি ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে সংবেদনশীল। অতীতে মর্গে পুরুষ ডোম কর্তৃক মৃত নারীর প্রতি অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিকৃত যৌনাচারের ঘটনা ঘটেছে, যা বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে। মর্গে নারী ডোম নিযুক্ত থাকলে মৃত নারীর গোপনীয়তা, মর্যাদা ও সম্ভ্রম রক্ষা পাবে।

​রিট আবেদনে সুনির্দিষ্ট কিছু ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে, ২৫ অক্টোবর, ২০২৫ তারিখে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য রাখা এক তরুণীর মরদেহের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচারের অভিযোগে ডোম আবু সাঈদকে (২৯) গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ২০ নভেম্বর, ২০২০ তারিখে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে লাশের সঙ্গে জঘন্য আচরণের অভিযোগে মুন্না ভগত (২০) নামের এক ডোমকে গ্রেপ্তার করেছিল সিআইডি। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট টেনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওর এক মর্গ রক্ষী কেনেট ডগলাসের (৬০) মৃতদেহের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচারের স্বীকারোক্তির উদাহরণও এতে যুক্ত করা হয়।

​আবেদনে আরও বলা হয়, সড়ক দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো কারণে নারী সদস্যের মৃত্যুর পর যখন স্বজনরা জানতে পারেন যে কোনো পুরুষ তার ময়নাতদন্ত করবেন, তখন পরিবারটি আরও বেশি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সেখানে নারী ডোম থাকলে স্বজনরা কিছুটা সান্ত্বনা পেতেন। মানবাধিকার সনদ অনুযায়ী মৃত্যুর পরও মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা জরুরি। তাই যুগের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবং নারীর সুরক্ষা ও বৈষম্য দূরীকরণে দেশের সব ময়নাতদন্ত কেন্দ্রে নারী ডোম নিয়োগ দেওয়া আবশ্যক।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0