গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় হামাসের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাসহ দুজন নিহত
গাজার মধ্যাঞ্চলীয় শহর দেইর আল-বালাহে একটি যানবাহনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় হামাস-নিয়ন্ত্রিত ফিলিস্তিনি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থার এক শীর্ষ কর্মকর্তা ও তার সহযোগী নিহত হয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ ও চিকিৎসাকর্মীদের সূত্রের বরাতে খবরটি নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
হামলায় প্রাণ হারানো ব্যক্তিরা হলেন মধ্য গাজার অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান কর্নেল ওয়ায়েল আল-লেদাউই এবং তার সহযোগী মেজর রামেজ আবু জারাইক। পরবর্তীতে হামাস পরিচালিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তাদের মৃত্যুর খবরটি স্বীকার করে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর তরফ থেকে জানানো হয়েছে, তারা হামাসের এক সদস্যকে লক্ষ্যবস্তু করে এই হামলা চালিয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিচয় সম্পর্কে বিশদ কিছু প্রকাশ করেনি তারা।
বিগত কয়েক মাসে হামাস পরিচালিত পুলিশ বাহিনীর বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও সদস্য ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, উক্ত কর্মকর্তারা সামরিক শাখার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং সেখানে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছিলেন।
অন্যদিকে, হামাসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে ফিলিস্তিনি পুলিশ ও তাদের মূল স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে গাজায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে ইসরায়েল। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত অক্টোবরে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিও এসব হামলার মাধ্যমে লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলে তারা দাবি করে।
গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য মতে, যুদ্ধবিরতি শুরুর পর থেকে চালানো ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ১ হাজার ১৯০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, যাদের বড় অংশই বেসামরিক নাগরিক। অন্যদিকে গাজায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পাল্টা হামলায় ৪ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে শুরু হওয়া টানা দুই বছরের সামরিক অভিযানে পুরো গাজা উপত্যকা প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এই ভূখণ্ডের প্রায় ৬৪ শতাংশ এলাকা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এবং বাকি অংশে প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দা অত্যন্ত মানবিক বিপর্যয়ের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











