শক্তিশালী টাইফুন ‘নউল’-এর আঘাতের আশঙ্কা: চীনে ২০ হাজার মানুষ স্থানান্তর, ট্রেন চলাচল বন্ধ

২৬ জুলাই ২০২৬ - ০৭:১০
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
শক্তিশালী টাইফুন ‘নউল’-এর আঘাতের আশঙ্কা: চীনে ২০ হাজার মানুষ স্থানান্তর, ট্রেন চলাচল বন্ধ

শক্তিশালী টাইফুন ‘নউল’ দ্রুত গতিতে উপকূলের দিকে ধেয়ে আসায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে চীনের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ গুয়াংডং থেকে ২০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানটিতে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভির বরাতে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর নিশ্চিত করেছে।

​সতর্কতা ব্যবস্থা ও গণপরিবহনে প্রভাব

​চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে রোববার (২৬ জুলাই) সকালের মধ্যবর্তী যেকোনো সময়ে টাইফুনটি হংকং থেকে গুয়াংডং প্রদেশের মধ্যবর্তী উপকূলীয় এলাকায় আঘাত হানতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশটির আবহাওয়া দপ্তর তাদের চার স্তর বিশিষ্ট সতর্কতার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্তর ‘কমলা সতর্কতা’ জারি রেখেছে। আবহাওয়া সংস্থার তথ্যমতে, গুয়াংডং ও পার্শ্ববর্তী ফুজিয়ান প্রদেশের কিছু এলাকায় প্রচণ্ড ঝোড়ো বাতাসের পাশাপাশি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে।

​সমুদ্রের বিপজ্জনক অবস্থা থেকে রক্ষায় মাছ ধরার সব নৌকা ও ট্রলারকে দ্রুত বন্দরে ফিরে আসার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং সেগুলো নিরাপদে অবস্থান নিয়েছে। ভ্রমণের ক্ষেত্রেও পড়েছে বড় ধরনের প্রভাব; শনিবার সকালে গুয়াংডংয়ে কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হলেও রোববার পুরো প্রদেশে সব ধরনের ট্রেন পরিষেবা সম্পূর্ণ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া গুয়াংডং প্রদেশের চাওঝৌ শহরের বিদ্যালয়গুলোতে ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রমসহ যাবতীয় আয়োজন আপাতত স্থগিত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

​চলমান প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু ভাবনা

​চলতি মাসেই চীনের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে চরম আবহাওয়া বিপুল ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টি করেছে। গুয়াংশি অঞ্চলে টাইফুন 'মায়সাক'-এর প্রভাবে দেখা দেওয়া ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ৩৯ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া মধ্যাঞ্চলীয় হুবেই প্রদেশে বজ্রঝড় ও প্রচণ্ড বাতাসে আরও ১১ জন প্রাণ হারান এবং ৩৩১ জন আহত হন।

​জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবাশ্ম জ্বালানির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে, যার কারণে বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলো এখন আগের চেয়ে ঘন ঘন ও মারাত্মক রূপ নিচ্ছে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণকারী দেশ হওয়া সত্ত্বেও চীন নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে শীর্ষে অবস্থান করছে এবং দেশটি ২০৬০ সালের মধ্যে নিজেদের অর্থনীতিকে সম্পূর্ণ কার্বন-নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0