প্রশ্নফাঁস রোধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপের বার্তা মোদির, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে অনড় শিক্ষার্থীরা
ভারতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস রোধে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও বার্তা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রকাশ করা ভিডিওতে তরুণদের ইতিবাচক সাড়া ও বিভিন্ন পরামর্শ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে শুক্রবার মধ্যরাতে আরেকটি বার্তায় তাদের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
ইনস্টাগ্রামের ওই বার্তায় নরেন্দ্র মোদি বলেন, তরুণদের মূল্যবান মতামত, ভালোবাসা ও পরামর্শ তাদের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে। বর্তমানে প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে দিল্লির জন্তর মন্তরে শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক আন্দোলন চলছে। আন্দোলন চলাকালেই দেওয়া বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশ্নফাঁস কোনো সাধারণ বিষয় নয়। এটি লাখ লাখ শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের জন্য গভীর কষ্টের কারণ।
তিনি আরও জানান, গত আড়াই মাসে প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে ভারত সরকার একগুচ্ছ কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে। এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের একটি শিক্ষাবর্ষ যেন নষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যে দ্রুততম সময়ে পুনরায় পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
মোদি আরও উল্লেখ করেন, প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত মামলাগুলোর দ্রুত বিচার নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের একটি প্রস্তাব এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে এ নিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর আসন্ন সপ্তাহে পার্লামেন্টে এই সংক্রান্ত বিলটি পাসের বিষয়ে সরকার উদ্যোগী হবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ভারতের প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে তীব্র আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় উচ্চশিক্ষা সচিব বিনীত যোশিকে বদলি করা হয়। এছাড়া ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির (এনটিএ) ৪৭ জন কর্মীকে বরখাস্তসহ একাধিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে দেশটির সরকার।
তবে সরকারের এসব পদক্ষেপে অসন্তুষ্ট আন্দোলনকারীরা তাঁদের মূল দাবি থেকে সরে আসেননি। দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে তারা এখনও অনড়। শুক্রবার আন্দোলনকারীদের একটি প্রতিনিধিদল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করে দাবিপত্র জমা দেন। এতে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় হতাশাগ্রস্ত হয়ে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অবশ্য সরকারি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান বিজেপি নেতৃত্বের পূর্ণ সমর্থনে রয়েছেন এবং তাঁকে পদ থেকে সরানোর কোনো সিদ্ধান্ত এই মুহূর্তে সরকারের নেই।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











