মধ্যপ্রাচ্যে ইরানি হামলায় অন্তত ১০০ মার্কিন সেনা আহত: পেন্টাগনের স্বীকারোক্তি

২১ জুলাই ২০২৬ - ১৫:৪০
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানি হামলায় অন্তত ১০০ মার্কিন সেনা আহত: পেন্টাগনের স্বীকারোক্তি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে গত দুই সপ্তাহে ইরানের পাল্টা হামলায় অন্তত ১০০ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন বলে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে পেন্টাগন। ২০ জুলাই (সোমবার) মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর এই তথ্য নিশ্চিত করে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ও বর্তমান সামরিক অভিযানের ব্যয় বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ জন অসন্তোষের চাপের মুখে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হলো।

​পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানান, গত ৭ জুলাই থেকে ইরানে মার্কিন বিমান হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে। তিনি জানান, আহতদের প্রায় ৯৬ শতাংশ সেনাসদস্য ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে যার যার অর্পিত দায়িত্বে ফিরে গেছেন। আহতদের বড় একটি অংশই হালকা মস্তিষ্কের আঘাত বা 'কনকশন'-এ ভুগছিলেন। পেন্টাগনের বিরুদ্ধে হতাহতের তথ্য গোপন করার অভিযোগ ওঠার পরপরই ট্রাম্প প্রশাসন এই পরিসংখ্যান জনসমক্ষে আনল।

​এর আগে, জর্ডানের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানি হামলায় নিহত দুই মার্কিন সেনার পরিচয় প্রকাশ করা হয়। তারা হলেন হাওয়াইয়ের ২৫ বছর বয়সী টাইলার জেমস ফিহান এবং টেক্সাসের ১৯ বছর বয়সী ইসাবেলা গঞ্জালেস। একই হামলায় নিখোঁজ থাকা তৃতীয় সেনাসদস্যের মরদেহ উদ্ধারে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে যে উত্তর ইরাকে আলাদা এক হামলায় আরও এক মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সেনা হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

​সেন্টকম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের বাধা প্রদান ক্ষমতা ধ্বংস করতে তারা ১০ম ধাপের বিমান হামলা সম্পন্ন করেছে। অন্যদিকে, বাহরাইনের ডারখোভিন পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার জবাবে ইরান সমর্থিত আইআরজিসি বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং অ্যামাজনের একটি ডাটা সেন্টার লক্ষ্য করে হামলা চালানোর দাবি করে। এছাড়া ওমান উপকূলে একটি তেলবাহী ট্যাংকার ও হরমুজ প্রণালীতে দুটি জাহাজ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

​যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, শুরুতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি অকার্যকর করার উদ্দেশ্যে অভিযান শুরু হলেও বর্তমানে মার্কিন সামরিক সংঘাতের প্রধান লক্ষ্য হরমুজ প্রণালীর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এপ্রিলের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে পরিস্থিতি ক্রমাগত অবনতির দিকে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম বেড়ে ৪ ডলার অতিক্রম করেছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0