ভারতের সিকিমে নির্মাণাধীন সুড়ঙ্গে ধস ও বিষাক্ত গ্যাস লিক: ৮ জনের মরদেহ উদ্ধার, আশঙ্কাজনক অবস্থায় আটকে ১৮-র বেশি শ্রমিক

২১ জুলাই ২০২৬ - ১২:১০
2 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
ভারতের সিকিমে নির্মাণাধীন সুড়ঙ্গে ধস ও বিষাক্ত গ্যাস লিক: ৮ জনের মরদেহ উদ্ধার, আশঙ্কাজনক অবস্থায় আটকে ১৮-র বেশি শ্রমিক
ভারতের সিকিম রাজ্যে ভুমিধ্বসে নিহত ৮, ছবি : সংগৃহীত

ভারতের সিকিম রাজ্যে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণাধীন সুড়ঙ্গে আকস্মিক ভূমিধস ও বিষাক্ত মিথেন গ্যাস নির্গমনের ঘটনায় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত আটজন শ্রমিকের নিথর দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

​দুর্ঘটনার পর উদ্ধারকারী দল এ পর্যন্ত ১২ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাতে সক্ষম হয়েছে। তবে সুড়ঙ্গের ভেতরে এখনও অন্তত ১৮ জনেরও বেশি শ্রমিক আটকা পড়ে আছেন বলে প্রবল আশঙ্কা করা হচ্ছে।

​সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে দক্ষিণ সিকিমের সামারদাং এলাকার ওই সুড়ঙ্গে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্যাটেল ইঞ্জিনিয়ারিং নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সেখানে 'তিস্তা স্টেজ ৬' জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণকাজ পরিচালনা করছিল। কাজ চলাকালীন হঠাৎ করেই সুড়ঙ্গে ভূমিধস নামে এবং বিষাক্ত মিথেন গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে।

​সিকিমের মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভেতরে ঠিক কতজন আটকে আছেন তা নির্দিষ্ট করে বলা না গেলেও ১৮ জনের বেশি ধরে নিয়েই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, স্থানীয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের যৌথ দল এই অভিযানে অংশ নিয়েছে।

​নামচি জেলার জেলা কালেক্টর অনুপা তামলিং জানান, সুড়ঙ্গের ভেতরে অক্সিজেনের সংকট ও অত্যন্ত বিষাক্ত মিথেন গ্যাসের তীব্রতার কারণে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের প্রাথমিক দুটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। কোনো সুরক্ষাসামগ্রী ছাড়া ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করায় কয়েকজন উদ্ধারকর্মী মাথা ঘোরা ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে বিশেষ সরঞ্জামসহ এনডিআরএফ দল তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়।

​প্রাণে বেঁচে ফিরে আসা কয়েকজন শ্রমিক জানান, দুর্ঘটনার ঠিক মুহূর্তে সুড়ঙ্গের অভ্যন্তরে বিকট বিস্ফোরণের মতো শব্দ হয়েছিল। এরপরই প্রবেশপথ ধসে পড়ে বন্ধ হয়ে যায়। তবে ধসের প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

​এদিকে দুর্ঘটনাস্থলে নির্বিঘ্নে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনায় আশপাশের সড়কে যানবাহন চলাচল সাময়িকভাবে সীমিত ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় শিলিগুড়ি ও পাকইয়োং এলাকা থেকেও বিশেষজ্ঞদের বিশেষ উদ্ধারকারী দল তলব করা হয়েছে। সুড়ঙ্গে আটকে থাকা প্রতিটি কর্মীকে দ্রুত ও নিরাপদে বের করে আনাই এখন প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0