দিল্লিতে সিজেপি-র ‘সংসদ চলো’ মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ, বন্ধ মেট্রো ও ইন্টারনেট সেবা

২০ জুলাই ২০২৬ - ১৬:০৩
2 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
দিল্লিতে সিজেপি-র ‘সংসদ চলো’ মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ, বন্ধ মেট্রো ও ইন্টারনেট সেবা
ছবি : সংগৃহীত

ভারতের পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই রাজধানীতে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার দিল্লিতে অনুমোতিহীন ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে জড়ো হন ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (সিজেপি) ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের হাজার হাজার সমর্থক। এ সময় বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ চালায়। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে মধ্য দিল্লির কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পাশাপাশি পাঁচটি প্রধান মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

​মেডিকেল কলেজে ভর্তির জাতীয় পরীক্ষা (নিট)-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কথিত প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের প্রতিবাদে এবং ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এ আন্দোলনের ডাক দেয় অভিজিৎ দীপকের প্রতিষ্ঠিত ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক দল সিজেপি। আন্দোলনকারীরা যন্তর মন্তর থেকে সংসদের দিকে যাত্রা শুরু করার চেষ্টা করলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের পথ আটকে দেয়। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও সংঘর্ষ শুরু হলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।

​আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পূর্ব সতর্কতার অংশ হিসেবে রবিবারই দিল্লি পুলিশ এ কর্মসূচির অনুমতি মেলেনি বলে জানিয়ে দিয়েছিল। সোমবার দিল্লির রাজীব চক, জনপথ, প্যাটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং সেবা তীর্থ—এই পাঁচটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এর ফলে রাজীব চকের মতো ব্যস্ততম ইন্টারচেঞ্জগুলোতে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে যাত্রীদের মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে দেখা গেছে।

​এদিকে, এই আন্দোলনের অন্যতম মুখ এবং ২১ দিন ধরে অনশনরত প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও কর্মী সোনম ওয়াংচুককে গত শনিবার জোরপূর্বক সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করায় পুলিশ। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তিনি অনশন অব্যাহত রেখেছেন। সেখান থেকে দেওয়া এক বার্তায় ওয়াংচুক নিজেকে অবৈধভাবে আটক করার অভিযোগ তোলেন এবং সমর্থকদের আন্দোলন সফল করার আহ্বান জানান। দীর্ঘ অনশনে তাঁর ৯ কেজির বেশি ওজন কমেছে এবং শারীরিকভাবে চরম দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তবে তিনি চিকিৎসাধীন থাকায় বর্তমানে তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো আন্দোলনের মূল নেতৃত্বের হাল ধরেছেন।

​উল্লেখ্য, গত মে মাসে অনলাইনে ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও খুব অল্প সময়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এই সিজেপি বা ককরোচ জনতা পার্টি। গত এক মাস ধরে তারা যন্তর মন্তরে টানা অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0