তাইওয়ানের উপকূলে চীনা জাহাজের তৎপরতা বৃদ্ধি: অবরোধের আশঙ্কায় তাইপের বিশেষ মহড়ার প্রস্তুতি

২০ জুলাই ২০২৬ - ১৫:৪৩
প্রকাশিত: ৩ মাস আগে
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
তাইওয়ানের উপকূলে চীনা জাহাজের তৎপরতা বৃদ্ধি: অবরোধের আশঙ্কায় তাইপের বিশেষ মহড়ার প্রস্তুতি
তাইওয়ানের উপকূলে চীনা জাহাজের তৎপরতা । ছবি: সংগৃহীত

তাইওয়ান প্রণালী ও এর আশেপাশের সমুদ্রসীমায় চীনের সরকারি ও পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত জাহাজের উপস্থিতি আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তাইওয়ানের কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্যে জানা গেছে, বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে দ্বীপরাষ্ট্রটির ওপর কূটনৈতিক ও সামারিক চাপ জোরদার করার ধারাবাহিকতায় এই তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

​বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তাইওয়ানকে নিজস্ব ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে আসছে চীন। এই দাবির পক্ষে চাপ তৈরি করতে বেইজিং প্রায় প্রতিদিনই তাইওয়ানের আকাশ ও জলসীমায় সামরিক বিমান, যুদ্ধজাহাজ এবং কোস্টগার্ডের উপস্থিতি বজায় রাখছে। যদিও তাইপে শুরু থেকেই চীনের এই দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

​তাইওয়ান কোস্টগার্ডের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, গত জুন মাসে তাইওয়ান ও তার নিকটবর্তী দ্বীপগুলোর জলসীমায় অন্তত ২৬৩টি চীনা সরকারি জাহাজ চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব জাহাজের মধ্যে কোস্টগার্ডের টহল যান, উদ্ধারকারী নৌযান এবং গবেষণা জাহাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল। মে মাসে যেখানে এই সংখ্যা ছিল ২০০টি এবং বিগত ২০২৫ সালের জুনে ছিল ১৭১টি। তবে উল্লিখিত সংখ্যার মধ্যে সরাসরি কোনো যুদ্ধজাহাজকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

​সংস্লিষ্ট কর্মকর্তা আরও জানান, চীন মূলত কোনো সরাসরি সামরিক সংঘাত এড়িয়ে ‘গ্রে জোন’ কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে তাইওয়ানের ওপর মানসিক ও রাজনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে। জুন মাসজুড়ে চীনের এই ধরনের সরকারি জাহাজের অবস্থান ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে হস্তক্ষেপের পরিমাণ লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

​গত মাসে চীন প্রথমবারের মতো তাইওয়ানের পূর্ব উপকূলীয় জলসীমায় 'আইন প্রয়োগকারী টহল' কার্যক্রম চালু করে, যাকে তাইপে একটি স্পষ্ট উস্কানিমূলক পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পাশাপাশি চীনা কোস্টগার্ড সদস্যরা তাইওয়ান প্রণালী অতিক্রমকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর সাথে রেডিওর মাধ্যমে যোগাযোগ করে তাদের গন্তব্য ও নাবিকদের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়েছে।

​তাইওয়ানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের মতে, বেইজিং শুধু জলপথে চলাচলে ব্যাঘাত ঘটাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং ভবিষ্যতে কৌশলগতভাবে তাইওয়ানের প্রধান সমুদ্রবন্দরগুলো অবরুদ্ধ করে সরবরাহ ব্যবস্থা অচল করার একটি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাইছে। এই ধরনের সম্ভাব্য ব্লকেড বা অবরোধ পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবেলায় তাইওয়ান কোস্টগার্ড খুব শিগগিরই বাস্তবভিত্তিক বিশেষ মহড়া পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0