মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ও অতিরিক্ত সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যুদ্ধের আশঙ্কায় বড় প্রস্তুতি

১৯ জুলাই ২০২৬ - ১৭:৫১
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা: এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ও অতিরিক্ত সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যুদ্ধের আশঙ্কায় বড় প্রস্তুতি
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কার মধ্যে ইসরায়েলে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান ও মাঝ আকাশে জ্বালানি ভরার রিফুয়েলিং বিমান মোতায়েন করতে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে অঞ্চলজুড়ে অতিরিক্ত মার্কিন সেনা মোতায়েন, কঠোর ভ্রমণ সতর্কতা জারি এবং সামরিক কৌশলে পরিবর্তনের খবর পাওয়া গেছে। এসব পদক্ষেপ ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য নতুন কোনো অভিযানের প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এখনই পূর্ণমাত্রার যুদ্ধকে অনিবার্য বলতে নারাজ, তবে তারা মনে করছেন পরিস্থিতি খুব দ্রুত বদলে যেতে পারে।

​টানা আট রাত ধরে চলা হামলা-পাল্টা হামলার পর উপসাগরীয় অঞ্চলে এই সংঘাত এখন প্রায় দৈনন্দিন রুটিনে পরিণত হয়েছে। ইরানে প্রতিটি নতুন দফার হামলা শুরুর আগে ও পরে মার্কিন সামরিক বাহিনী বিবৃতি প্রকাশ করছে। জবাবে ইরানও প্রতিবেশী দেশগুলোর দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ে নতুন করে হুমকি দিচ্ছে। শনিবার রাত থেকে রোববার সকাল পর্যন্তও এই পরিস্থিতি অব্যাহত ছিল এবং আজ রোববার সকালে কুয়েতে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে।

​বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী (মিডটার্ম) নির্বাচনের আগে ওয়াশিংটন নতুন কোনো উত্তেজনা সৃষ্টি করলে তা সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত রাখার চেষ্টা করবে। তবে ইরানের সঙ্গে সীমিত সংঘর্ষও নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, জর্ডানে ইরানের হামলায় ২ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও এক সেনা নিখোঁজ রয়েছেন। সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার পর এটাই প্রথম মার্কিন সামরিক প্রাণহানির ঘটনা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জর্ডানে আরও কয়েক ডজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন। ওয়াশিংটনের দাবি, এর জবাব হিসেবে টানা অষ্টম রাতেও ইরানে হামলা চালানো হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রতিশোধকে যথেষ্ট বলে মনে নাও করতে পারেন।

​এদিকে ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, নিহত সেনারা জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে অবস্থান করছিলেন, যার একটি টার্মিনাল গত মার্চ মাসে হামলার শিকার হয়েছিল। মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, লক্ষ্য নির্ধারণে ইরান হয়তো চীন বা রাশিয়ার সহায়তা পাচ্ছে এবং তারা এমন দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে যা মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সক্ষম। মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ধারাবাহিক হামলার কারণে প্রশাসনের ভেতরে কঠোরপন্থিদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়ে পেন্টাগন ভবিষ্যৎ হামলায় ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অতিক্রম করতে ড্রোন ও অন্যান্য মানববিহীন ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।

​ইসরায়েলে পৌঁছাচ্ছে মার্কিন যুদ্ধবিমান

উত্তেজনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলে রিফুয়েলিং বিমান এবং যুদ্ধবিমান পাঠাচ্ছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) নিশ্চিত করেছে, ট্যাংকার বিমানগুলো ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর ঘাঁটিতে মোতায়েন করা হবে। ইতোমধ্যে জার্মানির স্পাংডাহলেম বিমানঘাঁটি থেকে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান এবং ব্রিটেন থেকে অত্যাধুনিক স্টেলথ এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান এই অঞ্চলে স্থানান্তর করা হয়েছে। এসব যুদ্ধবিমান অন্যান্য মিশনের পাশাপাশি ইরানের রাডার ব্যবস্থা ধ্বংসের কাজে ব্যবহার করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0