মেহেরপুরে পাবজি গেম নিয়ে দ্বন্দ্বে বন্ধু হত্যা: দুই কিশোরের কারাদণ্ড ও ১৫ লাখ টাকা জরিমানা
অনলাইন গেম ‘পাবজি’ ও ‘ফ্রি ফায়ার’ খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে বন্ধুকে হত্যার দায়ে দুই কিশোরকে কারাদণ্ড ও মোট ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন মেহেরপুরের একটি আদালত। একই সঙ্গে দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিবারের সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে জরিমানার টাকা নিহতের পরিবারকে হস্তান্তরের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে মেহেরপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মাসুদ শেখ এ রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন আদালতের এ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত দুই কিশোর হলো— গাংনী উপজেলার মিনাপাড়া গ্রামের মিরাজুল ইসলামের ছেলে মোস্তফা আল মুজাহিদ (১৫) এবং একই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য নুহু নবীর ছেলে জুনায়েদ ইসলাম হামিম (১৪)। আদালতের রায়ে মুজাহিদকে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা এবং হামিমকে ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
- মেহেরপুর সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির শক্ত বাধায় ব্যর্থ
- খুলনায় পুলিশ পরিদর্শক আহত: রাতে একা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জেলা পুলিশের
- গাংনীতে পুকুরের পানিতে ডুবে ৫ বছর বয়সী শিশু কনার মৃত্যু
- মেহেরপুরের গাংনীতে পানির ট্যাংক পরিষ্কারের সময় ছাদ থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু
- মেহেরপুরে গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকে তরুণীর হাত বিচ্ছিন্ন, আহত মা-বাবাও
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৬ জুন বিকেলে অভিযুক্ত মুজাহিদ ও হামিম তাদের বন্ধু রেজোয়ান আল আবিরকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। আবির তার মায়ের মোবাইল ফোন সাথে করে নিয়ে বন্ধুদের মোটরসাইকেলে চড়ে বের হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় আবিরের বাবার কাছে (যিনি মালয়েশিয়া প্রবাসী) ইমু অ্যাপের মাধ্যমে হিন্দি ভাষায় এক লাখ টাকা মুক্তিপণ বা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে আবিরকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় তারা।
ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে পরিবার ও পুলিশকে জানানো হলে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন হিসেবে মুজাহিদ ও হামিমকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে যে, পাবজি ও ফ্রি ফায়ার গেম খেলা নিয়ে তৈরি হওয়া দ্বন্দ্বে তারা আবিরকে হত্যা করেছে। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যমতে মানিকদিয়া বালিয়া গাড়ির মাঠ থেকে আবিরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনার পর নিহতের মা রোজিনা খাতুন বাদী হয়ে গাংনী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালত এই রায় প্রদান করেন। রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়, জেলা প্রশাসক দণ্ডপ্রাপ্তদের পরিবারের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে তুলে জরিমানার অর্থ আদায় করবেন এবং তা ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে হস্তান্তর করবেন।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











