যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটে রাশিয়া ও ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিল পাস
ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্য সামরিক সংকটের প্রেক্ষাপটে রাশিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে একটি দ্বিদলীয় বিল পাস করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির সেনেটে অনুষ্ঠিত এক বিরল ভোটাভুটিতে ৮৬-১২ ব্যবধানে প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়। এর ফলে দুই দেশের অর্থনৈতিক চাপ আরও তীব্র হওয়ার পথ প্রশস্ত হলো।
এই আইন কার্যকর হলে রাশিয়া এবং রুশ তেল-গ্যাস ক্রয়কারী দেশগুলোর পাশাপাশি ইরানও ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়বে। বিলটি প্রস্তুত করা হয়েছে সাউথ ক্যারোলাইনার প্রয়াত রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের স্মরণে, যার পেছনে প্রায় এক বছর ধরে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় পক্ষেরই শক্তিশালী সমর্থন ছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রস্তাবে সম্মতি জানানোর পাশাপাশি ইরানের ওপর থাকা বিধিনিষেধ আরও কঠোর করার সুপারিশ যুক্ত করেছিলেন।
বিলের অন্যতম সহ-লেখক ডেমোক্র্যাটিক সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালের মতে, মস্কোর যুদ্ধ তহবিলে অর্থ জোগানো দেশগুলোকে—বিশেষত চীন ও ভারতকে জবাবদিহির আওতায় আনাই এর মূল উদ্দেশ্য। সেনেটের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান রিপাবলিকান সেনেটর রজার উইকার জানান, রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন জ্বালানি রপ্তানির আয়ের ওপর ভিত্তি করেই তার সামরিক শক্তি টিকিয়ে রেখেছেন, যা থামানো জরুরি।
গৃহীত পদক্ষেপ অনুযায়ী, রুশ কর্মকর্তা, অলগার্ক, তাদের পরিবার এবং মস্কোর যুদ্ধপ্রচেষ্টায় সহায়তাকারী ব্যাংকগুলো নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ এড়িয়ে সস্তা অপরিশোধিত তেল পরিবহনকারী রাশিয়ার গোপন 'শ্যাডো ফ্লিট' বা ছায়া বহরের ওপরও কড়াকড়ি আরোপ করা হবে। একই সাথে, রাশিয়ার তেল-গ্যাস ক্রেতা শীর্ষ পাঁচটি দেশের পণ্যে প্রয়োজনে শতভাগ পর্যন্ত শুল্ক বসানোর ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে প্রেসিডেন্টকে। পাশাপাশি ১৯৯৬ সালের একটি পুরোনো ধারা নবায়নের মাধ্যমে ইরানের আর্থিক ও অস্ত্র খাতের বিধিনিষেধ নতুন করে নিশ্চিত করা হলো।
তবে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে দেওয়া ঢালাও শুল্ক আরোপের ক্ষমতা নিয়ে সিনেটে কিছুটা আপত্তি উঠেছে। বার্নি স্যান্ডার্স, র্যান্ড পলসহ ১০ জন ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা বিলটির বিরুদ্ধে ভোট দেন। তাদের অভিযোগ, এই আইন সুনির্দিষ্ট সীমানা ছাড়াই ট্রাম্পের হাতে অতিরিক্ত শুল্ক ক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেবে। যদিও আপত্তি সত্ত্বেও রাশিয়ার আগ্রাসন মোকাবিলা এবং পুতিনকে চাপে রাখতেই বিলটির সমর্থনে ভোট দিয়েছেন বেশিরভাগ সিনেটর।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











