আর্জেন্টিনা হয়ে কৌশলে যুক্তরাষ্ট্রে পালালেন বলসোনারো, নিজেকে দাবি করলেন মূল ‘নেতা’

২৯ অক্টোবর ২০২৬ - ১৪:৪২
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
আর্জেন্টিনা হয়ে কৌশলে যুক্তরাষ্ট্রে পালালেন বলসোনারো, নিজেকে দাবি করলেন মূল ‘নেতা’
ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনে পরাজয়ের পর এবং সুপ্রিম কোর্টের পাসপোর্ট জমার নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কৌশলে ব্রাজিল ছেড়ে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছেন পরাজিত প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ফ্লাভিও বলসোনারো। জনসমক্ষ থেকে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় নিখোঁজ থাকার পর ফ্লোরিডার ওপা-লকা বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। ওয়াশিংটনে পৌঁছানোর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) কোনো প্রমাণ উপস্থাপন ছাড়াই তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা ও তাঁর সহযোগীরা ভোট কারচুপির মাধ্যমে জয় পেয়েছেন। একই সঙ্গে নিজেকে ব্রাজিলের মূল ‘নেতা’ হিসেবেও দাবি করেন ৪৫ বছর বয়সী এই ডানপন্থী নেতা।

​কারাগারে থাকা ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারোর বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত চলমান থাকায় আদালতের নির্দেশে তাঁর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও পাসপোর্ট জব্দের প্রক্রিয়া চলছিল। তবে সব আইনি কড়াকড়ি এড়িয়ে বৈধ ইতালীয় পাসপোর্ট ব্যবহার করে তিনি আর্জেন্টিনায় প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকে ইকুয়েডর হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। এক্সে দেওয়া বার্তায় তিনি নির্বাচনের প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ভোট গণনায় চরম জালিয়াতির অভিযোগ এনে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির কঠোর সমালোচনা করেন।

​যেভাবে চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশ ছাড়লেন বলসোনারো

  1. ​রবিবার: নির্বাচনে লুলার কাছে পরাজয়ের পর ব্রাসিলিয়া থেকে দেওয়া এক ভাষণে বলসোনারো ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেন এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
  2. ​সোমবার: ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করা ভিডিওতে আদালত কর্তৃক দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞাকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা বলে আখ্যা দেন। সে সময় তিনি নিজে আদালতে মুখোমুখি হয়ে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
  3. ​মঙ্গলবার: ব্রাজিলের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত হয়ে তাঁর উড্ডয়নের খবর ছড়িয়ে পড়ে। ওইদিনই তাঁর ব্রাজিলীয় ও কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল করা হলেও তাঁর অবস্থান নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়।
  4. ​বুধবার: জানা যায়, তিনি ব্রাজিলেই ছিলেন। অবশেষে ব্রাজিলের ফোজ দো ইগুয়াজু থেকে আর্জেন্টিনার পুয়ের্তো ইগুয়াজুর সংযোগকারী ‘তানক্রেদো নেভেস আন্তর্জাতিক সেতু’ দিয়ে বৈধ ইতালীয় পাসপোর্ট দেখিয়ে আর্জেন্টিনায় প্রবেশ করেন। ব্রাজিল পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি নথিতে তাঁর সীমান্ত অতিক্রমের কোনো তথ্য নেই।
  5. ​যুক্তরাষ্ট্রে আগমন: আর্জেন্টিনা থেকে ব্যক্তিগত বিমানে ইকুয়েডরের গুয়াইয়াকিল বন্দরে সংক্ষিপ্ত যাত্রাবিরতি শেষে মিয়ামির উদ্দেশ্যে রওনা হন বলসোনারো ও তাঁর পরিবার। এর ১২ ঘণ্টা পর তাঁরা ফ্লোরিডায় অবতরণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির তথ্যানুযায়ী, বাতিল হওয়া কূটনৈতিক পাসপোর্ট ব্যবহার করেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন।

​এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ফ্লাভিও বলসোনারোকে দেশে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকেই নির্বাসিত রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করছেন। তবে ওয়াশিংটনের মিত্রদের চাপ সত্ত্বেও হোয়াইট হাউস এখন পর্যন্ত বলসোনারোকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া ছাড়া লুলার পুনর্নির্বাচনের বিরুদ্ধে কোনো জোরালো পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়নি।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0