ইসরায়েলে সরকার গঠন নিয়ে জটিলতা: নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় আরব দলগুলো
ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন শাসক জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোয় দেশে সরকার গঠন নিয়ে চরম রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবারের (২৭ অক্টোবর) এ নির্বাচনে বিরোধী দলগুলো এবং ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী আরব দলগুলোর ভূমিকা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রাপ্ত গণনার তথ্যানুযায়ী, নির্বাচনে আরব দলগুলো লক্ষণীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের মোট আসন সংখ্যা বেড়ে ১৯-এ পৌঁছাতে পারে।
বর্তমানে বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট ও তার সহযোগীদের সামনে নতুন সরকার গঠনের দুটি মূল বিকল্প খোলা রয়েছে—হয় আরব দলগুলোর সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমঝোতা ও জোট গঠন করে সরকার পরিচালনা করা, অথবা নেতানিয়াহুকে নতুন নির্বাচন বা একটি জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সুযোগ প্রদান করা।
ক্ষমতার এই টানাপোড়েনের মধ্যে কেন্দ্র-বামপন্থি ডেমোক্র্যাটস পার্টির প্রধান ইয়ার গোলান জানিয়েছেন, জোট গঠনের কৌশল নির্ধারণে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) তিনি প্রধান বিরোধী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এই তালিকায় রয়েছেন বিরোধী শিবিরের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব ও ইয়াশার পার্টির প্রধান গাদি আইজেনকট এবং বি’ইয়াচাদ জোটের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ইয়ার লাপিদ। প্রকাশ্যে আরব দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা ও কাজের পক্ষে ইয়ার গোলান ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন।
অন্যদিকে, নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ এনেছে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ। তাদের দাবি, আরব দলগুলো নির্বাচনের স্বাভাবিক স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ন করেছে। লিকুদ পার্টি এ বিষয়ে দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ জমা দিয়েছে এবং পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতকে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। তবে অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি দলটি। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক আশা প্রকাশ করেছেন, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক বাধ্যবাধকতা মেনে চলার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার দায়িত্বশীল আচরণ করবে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











