সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতায় তেলের দামে বড় পতন, তিন মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে ব্রেন্ট
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কয়েক মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে, যা বাজারে নতুন আশাবাদের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) লেনদেনে ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৯ দশমিক ৯৬ ডলারে দাঁড়ায়। গত মার্চের শুরু থেকে এটিই এই সূচকের সর্বনিম্ন অবস্থান।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে গত কয়েক মাস ধরে তেলের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ছিল। তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক অগ্রগতির খবর প্রকাশের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১৫ ডলার পর্যন্ত কমেছে।
এদিকে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ পুনরায় আন্তর্জাতিক জলপথে চলাচল শুরু করেছে। এই তথ্য প্রকাশের পর বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা আরও জোরালো হয় এবং তেলের দামে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েকটি ইরানি তেল ট্যাংকার বর্তমানে উত্তর ভারত মহাসাগরে সক্রিয় রয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পণ্য ও পশুখাদ্য বহনকারী আরও কয়েকটি জাহাজ দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরের দিকে যাত্রা করেছে।
ইরানের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, সামুদ্রিক চলাচলের ওপর থাকা বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ধীরে ধীরে তুলে নেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ছে।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে যুক্তরাষ্ট্র আশাবাদী হলেও ইউরোপের কয়েকটি দেশ এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জি–৭ সম্মেলনে অংশ নেওয়া ইউরোপীয় নেতারা পরিস্থিতি নিয়ে ইতিবাচক থাকলেও তাৎক্ষণিক সমাধান নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত নন বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
তবুও বৈশ্বিক বাজারে বিনিয়োগকারীরা আপাতত সম্ভাব্য শান্তি উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন। ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তেলের দাম নিম্নমুখী ধারায় রয়েছে এবং সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও কিছুটা কমেছে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0
মন্তব্য করুন (০)