চট্টগ্রামের আনোয়ারায় পরিকল্পিত চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার উদ্যোগে নতুন গতি এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জটিলতায় আটকে থাকা এই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে ৪ হাজার ১৮৯ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চলের জন্য সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ’ প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। সচিবালয়ে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শিল্পাঞ্চলটিকে কার্যকর ও বিনিয়োগবান্ধব করতে সড়ক, গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় একটি জেটির সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের জন্য নতুন সড়ক নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি শিল্পকারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে নতুন পাইপলাইন বসানো হবে। পানি সংরক্ষণের জন্য আধুনিক রিজার্ভারও নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকারের ধারণা, এসব সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়বে এবং শিল্পাঞ্চলটিকে ঘিরে নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, শিল্পাঞ্চলটি পুরোপুরি চালু হলে প্রায় ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সম্ভব হতে পারে। পাশাপাশি প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু করে ২০৩১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে তা শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মোট ব্যয়ের মধ্যে ১ হাজার ৭২২ কোটি টাকা সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করবে। বাকি ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ হিসেবে পাওয়া যাবে বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে।
চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার ধারণাটি প্রথম আলোচনায় আসে ২০১৬ সালে, যখন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং বাংলাদেশ সফর করেন। ওই সময় দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে সমঝোতা হলেও বাস্তবায়ন পর্যায়ে নানা প্রতিবন্ধকতা দেখা দেয়। ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলেও ডেভেলপার নির্বাচন, চুক্তি প্রক্রিয়া এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণে প্রকল্পটি দীর্ঘ সময় ধরে অগ্রসর হতে পারেনি।
পরবর্তীতে ২০২২ সালে একটি চীনা প্রতিষ্ঠানকে ডেভেলপার হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হলেও সরকারি নীতিমালাজনিত কারণে নতুন জটিলতা তৈরি হয়। ফলে প্রকল্পের বাস্তবায়ন আবারও ধীরগতির হয়ে পড়ে।
তবে নতুন সরকারের উদ্যোগে বিষয়টি পুনরায় গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে। অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের মাধ্যমে শিল্পাঞ্চলটি বাস্তবায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করল। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম অঞ্চলে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এদিকে একই বৈঠকে আরও চারটি উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফেনী অঞ্চলের বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচব্যবস্থা পুনর্বাসন, করতোয়া নদী উন্নয়ন, কুষ্টিয়ায় নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং দেশের ১০০ উপজেলায় কারিগরি স্কুল ও কলেজ স্থাপন প্রকল্প।
অনুমোদিত পাঁচটি প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ হাজার ৩ কোটি টাকার বেশি। এর মধ্যে ৪ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে এবং ২ হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ থেকে আসবে। পাঁচ প্রকল্পের মধ্যে তিনটি নতুন এবং দুটি সংশোধিত প্রকল্প হিসেবে অনুমোদন পেয়েছে।
সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য করুন (০)