ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ গঠনের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে স্মারকলিপি

১৬ জুন ২০২৬ - ১৮:১০
প্রকাশিত: ২ ঘন্টা আগে
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
ইসলামী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ পর্ষদ গঠনের দাবিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে স্মারকলিপি
ছবি: ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের সৌজন্যে

ইসলামী ব্যাংকের জন্য দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের পাশাপাশি বিতর্কিত শেয়ার মালিকানার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়েছে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’। মঙ্গলবার সকালে সংগঠনের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেন।

মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে দেওয়া ওই স্মারকলিপিতে ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অনিয়মের তদন্ত, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সাতটি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

ফোরামের পক্ষ থেকে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকের শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন এবং এ–সংক্রান্ত বিভিন্ন আলোচনা–সমালোচনার কারণে গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেক আমানতকারী তাদের সঞ্চয়ের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত হয়ে শাখাগুলো থেকে অর্থ উত্তোলনের চেষ্টা করছেন। কিছু ক্ষেত্রে নগদ অর্থ সরবরাহে সীমাবদ্ধতা থাকায় পরিস্থিতি আরও আলোচিত হয়ে ওঠে।

সংগঠনটির দাবি, অতীতে ব্যাংকের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল, তার প্রভাব এখনো পুরোপুরি কাটেনি। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন অনিয়ম ও নীতিমালা লঙ্ঘনের কারণে ব্যাংকটি ক্ষতির মুখে পড়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার উন্নতির লক্ষণ দেখা গেলেও নতুন কিছু সিদ্ধান্ত গ্রাহকদের মধ্যে আবারও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ইসলামী ব্যাংক দেশের অন্যতম বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং এর সঙ্গে বিপুলসংখ্যক গ্রাহকের স্বার্থ জড়িত। তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

গ্রাহক ফোরামের সাত দাবি

১. স্বাধীন ও দক্ষ পরিচালনা পর্ষদ গঠন
যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও সততার ভিত্তিতে একটি পূর্ণাঙ্গ ও পেশাদার পরিচালনা পর্ষদ গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

২. মালিকানা বিষয়ে সমাধান
ব্যাংকের শেয়ার ও মালিকানা নিয়ে বিদ্যমান বিতর্কের গ্রহণযোগ্য নিষ্পত্তি চাওয়া হয়েছে।

৩. বিশেষ বিচারিক ব্যবস্থা
ব্যাংক খাতে সংঘটিত আর্থিক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্ত করে দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।

৪. স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ
ব্যাংকিং খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে এমন সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকা এবং বিভ্রান্তিকর প্রচারণা মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

৫. অর্থ পুনরুদ্ধার উদ্যোগ
পাচার বা আত্মসাতের অভিযোগ থাকা অর্থ ফেরত আনার জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ এবং দায়ীদের সম্পদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

৬. আইনি সংস্কার
ব্যাংকিং খাতে অনিয়মে জড়িত ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টদের ভবিষ্যতে পরিচালক হওয়ার সুযোগ সীমিত করতে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের দাবি জানানো হয়েছে।

৭. বিতর্কিত বক্তব্য প্রত্যাহার
সংসদে ইসলামী ব্যাংক সম্পর্কিত আলোচিত বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা কাঠামোয় বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আসে। পরবর্তীতে চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদে নতুন নিয়োগ এবং সাম্প্রতিক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে গ্রাহকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। এ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংকটির সার্বিক কার্যক্রম স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে গ্রাহক ফোরাম তাদের দাবির বিষয়ে এখনো আন্দোলন ও জনসচেতনতা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0

মন্তব্য করুন ()

User