কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে ক্ষুদ্র হিমাগার, দুই হাজার ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের

১৬ জুন ২০২৬ - ১৪:৫০
প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে ক্ষুদ্র হিমাগার, দুই হাজার ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের
কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছাবে ক্ষুদ্র হিমাগার, দুই হাজার ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা সরকারের

দেশের কৃষকদের ফসল সংরক্ষণ সুবিধা আরও সহজলভ্য করতে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে দুই হাজার ক্ষুদ্র হিমাগার নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এসব হিমাগার কৃষকের বসতবাড়ি কিংবা কৃষিজমির কাছাকাছি স্থাপিত হবে, ফলে উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণে সময় ও খরচ—দুইই কমবে।

সোমবার রাজধানীর বনানীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে বড় আকারের হিমাগার থাকলেও সেগুলো অনেক সময় কৃষকের জমি থেকে বেশ দূরে অবস্থান করে। ফলে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পান না। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই মাঠপর্যায়ে ছোট ছোট হিমাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কৃষিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিটি ক্ষুদ্র হিমাগার পরিচালনার জন্য স্থানীয় ২০ জন কৃষককে নিয়ে একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হবে। এছাড়া এসব হিমাগার সম্পূর্ণভাবে সৌরশক্তিচালিত হবে, যা বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করবে।

তিনি জানান, প্রকল্পটির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং এতে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। সরকার আশা করছে, পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৪০ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। এতে পরিবহন ব্যয় কমবে এবং ফসল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জীবিকা কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই জাতীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে কৃষি খাতের আধুনিকায়ন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। জমির সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু খাদ্যশস্য আমদানির প্রয়োজন হলেও অন্যান্য কৃষিপণ্যে স্বনির্ভরতা অর্জনে সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

তিনি আরও জানান, আগামী দেড় বছরের মধ্যে পেঁয়াজ উৎপাদনে এবং প্রায় তিন বছরের মধ্যে আদা ও পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনে দেশকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। পাশাপাশি কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও বাজারচাহিদার মধ্যে সমন্বয় করে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়নের বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তাঁর মতে, দেশের মাটির অম্লতা কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় আনা সম্ভব হলে রাসায়নিক সারের ব্যবহার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত কমে আসতে পারে, যা সরকারি ব্যয় কমাতেও সহায়ক হবে।

সেচ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে গভীর ও অগভীর নলকূপগুলো ধীরে ধীরে সৌরশক্তিনির্ভর ব্যবস্থায় রূপান্তর করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এতে সেচ মৌসুম শেষে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের কৃষি খাত অতীতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও বর্তমানে উৎপাদনশীলতার গতি কমে এসেছে। অতিরিক্ত সার ব্যবহারের কারণে মাটির গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ বাড়ছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, কৃষি খাতে বরাদ্দের বড় একটি অংশ সার ভর্তুকিতে ব্যয় হলেও কৃষির বহুমুখীকরণ, গবেষণা, সেচ ও আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ তুলনামূলকভাবে কম। ফলে ফলমূল, শাকসবজি, মাছ-মাংসসহ উচ্চমূল্যের কৃষিপণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হচ্ছে না।

বিশ্বব্যাংক সুপারিশ করেছে, কৃষি খাতে বিদ্যমান সহায়তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও লক্ষ্যভিত্তিক করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে গবেষণা, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংক, সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম), খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস) এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা বলেন, মানুষের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনের কারণে কৃষিকে আরও বহুমুখী ও বাজারমুখী করে তোলা সময়ের দাবি। একই সঙ্গে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদে কৃষি খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তারা।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0

মন্তব্য করুন ()

User