আঙুর চাষে বদলে গেল জীবন, নতুন স্বপ্ন দেখছেন যশোরের কৃষক

১৬ জুন ২০২৬ - ১৫:০৪
প্রকাশিত: ৩ ঘন্টা আগে
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
আঙুর চাষে বদলে গেল জীবন, নতুন স্বপ্ন দেখছেন যশোরের কৃষক
কৃষক জাহাঙ্গীর

যশোরের মনিরামপুর উপজেলার এক কৃষকের জীবনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে আঙুর চাষ। দীর্ঘদিন বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদন করেও কাঙ্ক্ষিত আর্থিক সাফল্য পাননি তিনি। তবে আধুনিক পদ্ধতিতে আঙুর চাষ শুরু করার পর অল্প জমি থেকেই উল্লেখযোগ্য আয় করতে সক্ষম হয়েছেন। এখন তিনি শুধু নিজের খামারই বড় করছেন না, অন্য কৃষকদেরও এই চাষে উদ্বুদ্ধ করছেন।

কৃষ্ণবাটি গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলমের কৃষির সঙ্গে সম্পর্ক অনেক দিনের। জীবনের নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে তিনি কৃষিকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন। প্রথমদিকে প্রচলিত ফসল আবাদ করলেও সেখান থেকে খুব বেশি লাভের মুখ দেখেননি। সংসারের প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খেতে হতো তাঁকে। তবে নতুন কিছু করার ইচ্ছা থেকেই তিনি বিকল্প ফলচাষ নিয়ে ভাবতে শুরু করেন।

ইন্টারনেট ও বিভিন্ন কৃষিবিষয়ক ভিডিও থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তিনি আঙুর চাষ সম্পর্কে ধারণা নেন। পরে নিজ উদ্যোগে সীমিত পরিসরে আঙুরের বাগান গড়ে তোলেন। শুরুতে অনেকেই তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গাছে ফল আসতে শুরু করলে সেই সন্দেহ দূর হয়ে যায়।

বর্তমানে তাঁর বাগানে ঝুলে থাকা আঙুরের থোকা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসছেন। কেউ ফল কিনছেন, কেউ চারা সংগ্রহ করছেন, আবার কেউ আঙুর চাষের খুঁটিনাটি জানতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। ফলে তাঁর খামারটি স্থানীয়ভাবে একটি আকর্ষণীয় স্থানে পরিণত হয়েছে।

জাহাঙ্গীর জানান, আঙুর বিক্রির পাশাপাশি চারা উৎপাদন থেকেও ভালো আয় হচ্ছে। এই দুই খাত মিলিয়ে তিনি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ উপার্জন করেছেন। উৎপাদন খরচ বাদ দেওয়ার পরও হাতে ভালো মুনাফা থাকছে। সেই অর্থ দিয়ে তিনি পারিবারিক অবস্থার উন্নয়ন এবং খামার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছেন।

শুধু নিজের সফলতায় থেমে থাকেননি তিনি। আশপাশের অনেক কৃষক এখন তাঁর কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন। জমি নির্বাচন, মাচা তৈরি, পরিচর্যা এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করছেন। তাঁর সহায়তায় ইতোমধ্যে কয়েকজন নতুন কৃষক আঙুর চাষ শুরু করেছেন।

স্থানীয়দের মতে, জাহাঙ্গীরের উদ্যোগ দেখার পর এলাকায় আঙুর চাষের প্রতি আগ্রহ অনেক বেড়েছে। আগে যেখানে এই ফলের বাণিজ্যিক চাষ প্রায় দেখা যেত না, এখন বিভিন্ন গ্রামে নতুন নতুন বাগান তৈরি হচ্ছে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে একটি নতুন কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তবে এই খাতে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। উন্নতমানের কৃষি উপকরণ, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং বাজার ব্যবস্থাপনা আরও সহজ হলে আঙুর চাষে আগ্রহী কৃষকদের জন্য পথ আরও সুগম হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

একসময় সীমিত আয়ের কৃষক হিসেবে জীবনযাপন করা জাহাঙ্গীর আলম এখন অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার উদাহরণ। তাঁর বিশ্বাস, সঠিক পরিকল্পনা, পরিশ্রম এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে পারলে দেশে আঙুর চাষ আরও বিস্তৃত হবে এবং কৃষকদের আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0

মন্তব্য করুন ()

User