আলমডাঙ্গার বিএনপি রাজনীতির অন্যতম ব্যক্তিত্ব এমদাদুল হক ডাবু'র আজ ১ম মৃত্যু বার্ষিকী
এমদাদুল হক ডাবু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)'র আলমডাঙ্গার রাজনীতির অন্যতম ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বহু লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দলের দুর্দিনে রাজপথে থেকে একজন পরীক্ষিত নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেও দলের সুদিনে তিনি পরপারে চলে গেছেন। আজ ১৫ জুন তাঁর প্রথম মৃত্যু বার্ষিকী। লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২৫ সালের ১৫ জুন ৫৭ বছর বয়সে সম্ভাবনাময়ী এই রাজনৈতিক নেতার অকাল মৃত্যু হয় ।
এমদাদুল হক ডাবু ১৯৬৯ সালের ১৫ জানুয়ারী আলমডাঙ্গার কালিদাসপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম মরহুম আব্দুল মালেক মিয়া। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে তিনি মেজো। বড় ভাই হাজী আসাদুল হক লাবু, সেজো ভাই আব্দুল্লাহ টিপু সুলতান, নোয়া ভাই মাজেদুল হক পিকু ও ছোট ভাই হাসিবুল হক লিপু। তাঁর দুই ছেলে আবির আনম ও অঙ্কন। জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত আবির ইতোমধ্যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জগতে পরিচিত হয়ে উঠেছে । ছোট ছেলে অঙ্কন ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে। আর ভাইয়েরা সবাই বিএনপির রাজনীতির সাথে এখনও সক্রীয়। তাঁর যোগ্য রাজনৈতিক উত্তরসুরী হাসিবুল হক লিপু তো জনসেবার জন্য মাঠেই রয়েছেন।
এমদাদুল হক ডাবু মূলত ৮০'র দশকে ছাত্র রাজনীতিতে পদার্পণ করেন । তাঁর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন অনেক প্রসারিত। দলের যোগ্য বিবেচনায় বিভিন্ন সময়ে তিনি বড় পদে থেকেই দায়িত্ব পালন করেছিলেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সক্রীয় কর্মী হিসেবে দলের রাজনীতি শুরু করেন। তৎকালিন স্বৈরাচার হটাও আন্দোলন আলমডাঙ্গায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন । সে কারণে ১৯৮৯ সালে তাঁকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের আলমডাঙ্গা থানা শাখার সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। ৯০ এর গণঅভ্যুত্থানে আর পাঁচ জন ছাত্রনেতার মতই তিনি রাজপথের লড়াকু সৈনিক হিসেবে আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালে জাতীয়তাবাদী যুবদলের আলমডাঙ্গা উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ২০০০ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। রাজনৈতিক সততা ও সাংগঠনিক দক্ষতা তাঁকে আরও উপরে উঠতে সহযোগিতা করেছে । ২০০০ সালে আলমডাঙ্গা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির ১ নং যুগ্ম আহবায়কের দায়িত্ব পেয়েছিলেন। ২০১০ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আলমডাঙ্গা উপজেলা যুবদলের আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেন। একই সময়ে কেন্দ্রীয় যুবদলের নির্বাহী সদস্য মনোনীত হয়েছিলেন।
রাজনীতির পাশাপাশি অনেক সামাজিক সংগঠনের সাথেও জড়িত ছিলেন তিনি। কিছুদিন সৌখিন সাংবাদিকতাও করেছেন । দৈনিক হৃদয়ে বাংলাদেশ নামের একটি জাতীয় দৈনিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেছেন। রাজনীতির কারণেই বিগত সরকারের আমলে হামলা মামলার শিকার হয়েও রাজনীতি থেকে তাঁকে পিছু হটানো সম্ভব হয়নি। জীবনে অনেক প্রতিকূল পরিন্থিত মোকাকেলা করেই রাজনীতিতে টিকে ছিলেন বিএনপির এই পোড় খাওয়া ত্যাগী নেতা । দলের মধ্যেও অনেক সময় নেতৃত্বের দ্বন্দে কোনঠাসা হতে হয়েছে তাঁকে । তারপরও জাতীয়তাবাদী চেতনায় অবিচল থেকেই পৃথিবী থেকে চির বিদায় নিয়েছেন তিনি । বিশ্লেষকরা মনে করেন তাঁর নীতি,আদর্শের পথ অনুসরণ করেই ভবিষৎ প্রজন্ম এগিয়ে যাবে রাজনীতির মাঠে । ভালো কাজের আদর্শ হয়েই তিনি বেঁচে থাকবেন দলের নেতাকর্মীদের মাঝে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
1
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
1
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0
মন্তব্য করুন (০)