প্রাথমিক শিক্ষায় পরীক্ষার ফি নির্ধারণ, উঠছে নানা প্রশ্ন

১৬ জুন ২০২৬ - ২০:১৩
প্রকাশিত: ১ ঘন্টা আগে
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
প্রাথমিক শিক্ষায় পরীক্ষার ফি নির্ধারণ, উঠছে নানা প্রশ্ন
প্রাথমিক শিক্ষায় পরীক্ষার ফি নির্ধারণ, উঠছে নানা প্রশ্ন

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষার ফি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন এই ব্যবস্থায় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ৩০ টাকা, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ৪০ টাকা এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ৫০ টাকা করে দিতে হবে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যাপ্ত সরকারি বরাদ্দের অভাবে আপাতত পরীক্ষার ব্যয় নির্বাহের জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করছেন, প্রাথমিক শিক্ষা যেহেতু আইন অনুযায়ী অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক, তাই পরীক্ষার জন্য অর্থ নেওয়ার সিদ্ধান্ত সেই নীতির সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বর্তমানে দেশে ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় এক কোটি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। প্রাথমিক স্তরে বছরে সাধারণত ত্রৈমাসিক, অর্ধবার্ষিক ও বার্ষিক—এই তিন ধরনের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্ধারিত অর্থের পরিমাণ তুলনামূলক কম হলেও দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য এটি অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, বরাদ্দসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতার কারণে সরকার এখন পরীক্ষার সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করতে পারছে না। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফি নেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

এদিকে কয়েকজন বিদ্যালয়প্রধান জানিয়েছেন, সম্প্রতি উপজেলা ও থানা পর্যায়ের সমন্বয় সভাগুলোতে মৌখিকভাবে পরীক্ষার ফি আদায়ের বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, আগে সরকারি বরাদ্দ থেকেই পরীক্ষার খরচ মেটানো হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য দেওয়া অর্থ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য দেওয়া স্কুল লেভেল ইমপ্রুভমেন্ট প্ল্যান (স্লিপ) ফান্ড থেকে ছোটখাটো মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও শিক্ষার মানোন্নয়নের কাজ করা হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, আগের তুলনায় এই বরাদ্দ কমে যাওয়ায় অনেক স্কুলে পরীক্ষা পরিচালনার খরচ জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, এর আগে একটি প্রস্তাবে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্যও ২০ টাকা করে পরীক্ষার ফি নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনায় ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ফি নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ফি মওকুফের সুযোগ রাখার কথাও আলোচনায় এসেছে।

এ সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এসেছে, যখন সরকার বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ, উপবৃত্তি প্রদান, স্কুল ইউনিফর্ম ও পুষ্টিকর খাবার সরবরাহসহ বিভিন্ন শিক্ষাসহায়ক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। নতুন বাজেটে শিক্ষা খাতেও উল্লেখযোগ্য বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফলে অনেকের প্রশ্ন, এত বড় বাজেট থাকা সত্ত্বেও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষার ব্যয়ের জন্য শিক্ষার্থীদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে কেন।

শিক্ষাবিদদের একাংশের মতে, অবৈতনিক শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো সব শিশুর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। তাই শিক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেকোনো অতিরিক্ত ব্যয় ভবিষ্যতে বৈষম্য তৈরি করতে পারে। তাদের ভাষ্য, সংবিধানে নির্ধারিত অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার চেতনা বজায় রাখতে পরীক্ষার ব্যয়সহ প্রয়োজনীয় অর্থ রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেই নিশ্চিত করা উচিত।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0

মন্তব্য করুন ()

User