পরিত্যক্ত ইটভাটায় ৭৫ জাতের বিদেশি আম, চাঁদপুরে হেলাল উদ্দিনের ব্যতিক্রমী সাফল্য
চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহতলী এলাকার ডাকাতিয়া নদীর তীরবর্তী একটি পরিত্যক্ত ইটভাটা আজ রূপ নিয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী ফলবাগানে। এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন সাংবাদিক ও কৃষি উদ্যোক্তা মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘ফ্রুটস ভ্যালি অ্যাগ্রো’ খামারে বর্তমানে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ৭৫ প্রজাতির উন্নতমানের আমের চাষ হচ্ছে, যা স্থানীয় কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
বাগানে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে সারি সারি আমগাছ। প্রায় তিন শতাধিক গাছে ঝুলছে বিভিন্ন রঙ, আকৃতি ও স্বাদের আম। ফলকে পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে বিশেষ ধরনের সুরক্ষা আবরণ ব্যবহার করা হয়েছে। উদ্যোক্তার ভাষ্য, এ পদ্ধতিতে তুলনামূলক নিরাপদ ও কম রাসায়নিক ব্যবহার করে আম উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে।
বর্তমানে অধিকাংশ আম পাকতে শুরু করলেও পুরোপুরি সংগ্রহের জন্য আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে। তবে আমের মৌসুম ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বাগানটি দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। অনেকেই টিকিট কেটে এই অনন্য সংগ্রহশালা ঘুরে দেখছেন।
হেলাল উদ্দিন জানান, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে উন্নত জাতের ফলের চারা সংগ্রহ করে তিনি এ খামার গড়ে তুলেছেন। একসময় পরিত্যক্ত ও অনাবাদি পড়ে থাকা ইটভাটার জায়গাকে আধুনিক কৃষি খামারে রূপান্তর করাই ছিল তাঁর বড় লক্ষ্য। বর্তমানে তাঁর সংগ্রহে বিশ্বের অন্যতম দামী ও জনপ্রিয় বেশ কয়েকটি আমের জাত রয়েছে।
খামারে চাষ করা জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে ভ্যালেন্সিয়া প্রাইড, লেমন জেস্ট, আলফানসো, গ্লেন, মিয়াজাকি, কেন্ট, কেইট, কেশর, মল্লিকা, তোতাপুরি, নাম ডক মাই, মহাচানক, ব্রুনাই কিং, ক্যারি, ফ্রান্সিস, থাই কাঁচামিঠা, গৌরমতি এবং বারি-৪সহ আরও বহু পরিচিত ও বিরল প্রজাতি।
উদ্যোক্তা জানান, গত মৌসুমে ৫৭ জাতের আম বিক্রি করে প্রায় ৬ লাখ টাকা আয় হয়েছিল। এ বছর জাতের সংখ্যা বেড়ে ৭৫-এ পৌঁছেছে। ফলন কিছুটা কম হলেও তিনি ৫ থেকে ৬ লাখ টাকার সমপরিমাণ বিক্রির আশা করছেন। পাশাপাশি কৃষি বিভাগের কারিগরি সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
বাগান ঘুরে দেখতে আসা দর্শনার্থীদের অনেকেই জানিয়েছেন, একসঙ্গে এত বৈচিত্র্যময় আমের সংগ্রহ তারা আগে দেখেননি। ভিন্ন ভিন্ন জাতের আমের স্বাদ গ্রহণের সুযোগ তাদের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা হিসেবে ধরা দিয়েছে। এমন উদ্যোগ তরুণদের কৃষি খাতে আগ্রহী করে তুলতে পারে বলেও তারা মনে করেন।
চাঁদপুর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বিদেশি জাতের আম বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মাটির সঙ্গে পুরোপুরি মিল না থাকলেও যথাযথ পরিচর্যা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, অতিরিক্ত তাপমাত্রা এবং পরিচর্যার ঘাটতির কারণে অনেক সময় ফলন কমে যেতে পারে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত পরিচর্যা, সুষম সার প্রয়োগ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে বিদেশি জাতের আম চাষে আরও সফলতা আসবে। এ ধরনের উদ্যোগ দেশের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের কৃষিভিত্তিক উদ্ভাবনী কাজে উৎসাহিত করছে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0
মন্তব্য করুন (০)