আটলান্টিক মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান গুগল সিইওর
আটলান্টিক মহাসাগরের নাম পরিবর্তন করে নিজের নামে অথবা ‘আমেরিকা’ শব্দ যুক্ত করার জন্য সার্চ জায়ান্ট গুগলের কাছে প্রস্তাব দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাই তাঁর এ প্রস্তাবে সায় দেননি। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনায় আয়োজিত এক জনসমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই তথ্যটি প্রকাশ করেন।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, সমাবেশে ডোনাল্ড ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, তিনি টেলিফোনে গুগলের সিইওর সঙ্গে কথা বলেন এবং আটলান্টিক মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনার অনুরোধ জানান। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, তিনি জানান যে প্রশান্ত ও আটলান্টিক দুটি মহাসাগরই তাঁর পছন্দ। তবে তিনি অন্য কোনো মহাসাগরের চেয়ে আটলান্টিক মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের বিষয়েই গুরুত্ব দিতে চেয়েছিলেন।
ইতোপূর্বে মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তনের প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, সেই ঘটনা নিয়ে গুগল এখনো কিছুটা অস্বস্তিতে রয়েছে। এরপরেই তিনি সুন্দর পিচাইকে আটলান্টিক মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের বিষয়টি প্রস্তাব করেন। তবে গুগলের প্রধান নির্বাহী তা সরাসরি নাকচ করে দেন। পিচাই জানান, মহাসাগরের বিষয়টি একেবারেই ভিন্ন এবং এগুলো বিশ্বের একাধিক দেশের বিস্তৃত অঞ্চল নিয়ে গঠিত। ফলে এ ধরনের পদক্ষেপে ইতিবাচক সাড়া দেওয়া সম্ভব নয়।
গুগল সিইওর এ অবস্থানের পর ট্রাম্প জানান, তিনি সম্ভবত এই প্রস্তাব থেকে পিছিয়ে আসবেন। সমাবেশস্থলে উপস্থিত উপস্থিতদের মতামত নিয়ে তিনি পরবর্তীতে আটলান্টিক মহাসাগরের বর্তমান নামটি বহাল রাখার পক্ষেই মত প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর মেক্সিকো উপসাগরের নাম বদলে ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছিলেন ট্রাম্প। এর ধারাবাহিকতায় গুগল ম্যাপসে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন নামটি দেখানো হলেও মেক্সিকোর ব্যবহারকারীদের জন্য মূল নামই বহাল রাখা হয়। একইভাবে বাণিজ্য বিরোধ চলাকালে কানাডা সীমান্তে অবস্থিত অন্টারিও হ্রদের নাম ‘লেক আমেরিকা’ করার নির্দেশ এবং হরমুজ প্রণালির নাম ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখার আলোচনা তুলে মার্কিন প্রশাসনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন তিনি। এসব নাম পরিবর্তনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিকভাবেও বেশ সমালোচিত হয়েছে।
সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে
লাইক
0
অপছন্দ
0
ভালোবাসা
0
হাসি
0
বিস্ময়
0
দুক্ষ
0
রাগ
0











