নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

২২ অক্টোবর ২০২৬ - ১০:২০
প্রকাশিত: ১ দিন আগে
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁয়ে যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা
ছবি সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বাড়ি ফেরার পথে জহির ফকির নামের এক যুবদল নেতাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

​নিহত জহির ফকির (৪৫) আড়াইহাজার উপজেলার কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়নের আব্দুর রহমানের ছেলে। তিনি আড়াইহাজার উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কালাপাহাড়িয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। নিহতের বাড়ি আড়াইহাজারে হলেও গত ১৫ বছর ধরে তিনি মুন্সীগঞ্জ সদর এলাকায় ভাড়া বাসায় সপরিবারে থাকতেন। এ ছাড়া সোনারগাঁয়ের চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় তার একটি ফার্মেসির দোকান রয়েছে।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে প্রতিদিনের মতো দোকান বন্ধ করে বাসায় ফিরছিলেন জহির। পথে চর কিশোরগঞ্জ এলাকায় একদল দুর্বৃত্ত ধারালো চাপাতি দিয়ে তাকে অতর্কিত কুপিয়ে সড়কে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। আশপাশের লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য মুন্সীগঞ্জের একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

​হত্যাকাণ্ডের পেছনে নির্বাচনী শত্রুতাকে দায়ী করেছেন নিহতের পরিবার। নিহতের ভাগিনা ইসমাইল হোসেন অভিযোগ করে জানান, কালাপাহাড়িয়া এলাকার মোবারক হোসেন ও তার সমর্থকরা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত। তার ভাষ্যমতে, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন জহির। একই পদে মোবারক হোসেনও প্রার্থী হতে চেয়েছিলেন। প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেয়ার পর থেকেই মোবারক হোসেন তাকে নানা ধরনের হুমকি দিয়ে আসছিলেন এবং এর জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

​তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মোবারক হোসেন। তিনি জানান, ঘটনার সাথে তার কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। পাশাপাশি প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

​এ বিষয়ে আড়াইহাজার উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব খোরশেদ আলম বলেন, জহির ফকির দলের অত্যন্ত ত্যাগী একজন নেতা ছিলেন। রাতে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল তাকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কারা সরাসরি এতে জড়িত তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন তিনি।

​সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল বারিক জানান, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ উদঘাটনে কাজ শুরু করেছে পুলিশ। একই সাথে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তদন্ত শেষ হলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0