বিশ্বকাপে ১০ গোলের মহাকাব্যিক থ্রিলার: ফ্রান্সকে হারিয়ে ব্রোঞ্জের স্বাদ পেল ইংল্যান্ড

১৯ জুলাই ২০২৬ - ০৮:৪৪
3 মি. পড়ার সময়
সংবাদ শুনুন প্লে করতে ক্লিক করুন
বিশ্বকাপে ১০ গোলের মহাকাব্যিক থ্রিলার: ফ্রান্সকে হারিয়ে ব্রোঞ্জের স্বাদ পেল ইংল্যান্ড
ছবি; সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে ফুটবল বিশ্বকাপের একটি অবিশ্বাস্য ও স্মরণীয় ম্যাচ উপভোগ করলেন ক্রীড়ামোদিরা। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী এই লড়াইয়ে ফ্রান্সকে ৪-৬ গোলের বড় ব্যবধানে পরাজিত করে ব্রোঞ্জ মেডেল নিজেদের করে নিয়েছে থ্রি লায়ন্সরা। ম্যাচের প্রথমার্ধে ইংল্যান্ড ৪-০ ব্যবধানে একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করলেও, দ্বিতীয়ভাগে কিলিয়ান এমবাপ্পের নৈপুণ্যে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় ফরাসির। শ্বাসরুদ্ধকর এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত ১০টি গোল হয়েছে। এই জয়ের মাধ্যমে ১৯৬৬ সালের পর পুরুষ বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা সাফল্য পেল ইংল্যান্ড। অন্যদিকে, ম্যাচ হারলেও বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার নতুন রেকর্ড গড়েছেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে।

​ম্যাচের শুরু থেকেই ফরাসি রক্ষণভাগের ওপর চড়াও হয়ে খেলে ইংলিশরা। খেলার মাত্র ৩ মিনিটে ডেক্লান রাইসের জোরালো শটে লিড নেয় ইংল্যান্ড। এরপর কনসার হেড এবং বুকায়ো সাকার দারুণ ফিনিশিংয়ে ব্যবধান বাড়ায় তারা। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (৪৫+২ মিনিটে) এবেরেচি এজের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোলটি করেন সাকা। ফলে ৪-০ ব্যবধানের বিশাল লিড নিয়ে বিরতিতে যায় টমাস টুখেলের শিষ্যরা। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ইতিহাসে প্রথমার্ধে এমন ব্যবধান বেশ বিরল।

​দ্বিতীয়ার্ধে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপ নিয়ে মাঠে নামে ফ্রান্স। ৪৮ মিনিটে ওলি ফরোয়ার্ড মাইকেল অলিসের অ্যাসিস্ট থেকে প্রথম গোল করে ব্যবধান ১-৪ করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এটি ছিল চলতি আসরে তার নবম গোল, যা তাকে লিওনেল মেসিকে ছাড়িয়ে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে একক শীর্ষে নিয়ে যায়। এর ঠিক ছয় মিনিট পর (৫৪ মিনিটে) এমবাপ্পের পাস থেকে বারকোলার শটে দ্বিতীয় গোল পায় ফ্রান্স। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে অলিসের সঙ্গে চমৎকার ওয়ান-টু-ওয়ান পাসিংয়ে ইংলিশ রক্ষণভাগ ভেঙে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন এমবাপ্পে। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ২২-এ নিয়ে যান তিনি, যা লিওনেল মেসির ২১ গোলের রেকর্ড ভেঙে তাকে বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে বসায়।

​খেলার শেষদিকের নাটকীয়তা স্টেডিয়ামের উত্তেজনা বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণ। ৮৭ মিনিটে বুকায়ো সাকা নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করলে ৫-৩ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। তবে হাল ছাড়েনি ফ্রান্স; ৯০+৬ মিনিটে উসমান দেম্বেলের বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে গোল করে ব্যবধান ৪-৫ এ নামিয়ে আনে ফরাসির। সমতায় ফেরার জন্য যখন ফ্রান্স মরিয়া, ঠিক তখনই জুড বেলিংহাম মাঝমাঠ থেকে একক প্রচেষ্টায় বল নিয়ে বক্সে ঢুকে ডিফেন্ডার লাক্রোয়াকে পরাস্ত করে জালের নিচের কোণায় বল পাঠান। বেলিংহামের এই গোলের পরপরই ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজে এবং ৪-৬ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় ইংল্যান্ডের। সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার ম্যাট আপসন বিবিসি রেডিওতে মন্তব্য করেন যে, ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ অভিযানের এর চেয়ে ভালো সমাপ্তি আর হতে পারতো না।

​এই ম্যাচে ইংল্যান্ডের বুকায়ো সাকা হ্যাটট্রিকসহ একটি অ্যাসিস্ট করে জয়ের মূল নায়ক বনে যান। পাশাপাশি জুড বেলিংহাম টুর্নামেন্টে নিজের ষষ্ঠ গোলটি করেন। ফরাসি শিবির হারলেও আসরে ১০ গোল করে গোল্ডেন বুট নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফুটবল ইতিহাসে নতুন কীর্তি গড়লেন এমবাপ্পে। সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে বিদায় নেওয়ার পর এই জয় ইংলিশদের কিছুটা হলেও সান্ত্বনা দেবে। একই সাথে, ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ে দেশমের বিদায়ী ম্যাচটি হার দিয়ে শেষ হলেও একটি স্মরণীয় ফুটবলীয় লড়াইয়ের সাক্ষী হয়ে রইল ক্রীড়া বিশ্ব।

সংবাদটি আপনার কাছে কেমন লেগেছে

লাইক লাইক 0
অপছন্দ অপছন্দ 0
ভালোবাসা ভালোবাসা 0
হাসি হাসি 0
বিস্ময় বিস্ময় 0
দুক্ষ দুক্ষ 0
রাগ রাগ 0